নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: “ক্লিন ঢাকা, গ্রীন ঢাকা” স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ডেঙ্গু ও ফুটপাত দখল মুক্ত ঢাকা উত্তর গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল বেলা রাজধানীর শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ডেঙ্গু লার্ভা ধ্বংস ও প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্ন সপ্তাহের উদ্বোধনকালে তিনি এই ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে শনিবার সকাল থেকেই শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে হাজারো নেতাকর্মী ও ১৪ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দারা জড়ো হন। সকাল থেকেই শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও স্থানীয় এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী আমরা ঢাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ক্লিন ঢাকা, গ্রীন ঢাকা গড়তে চাই। আমরা গত ৩ মাস আগ থেকেই ডেঙ্গু মুক্ত ঢাকা উত্তর গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
“তিনি বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু মশার লার্ভা ধ্বংস করার লক্ষ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছি। ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে লার্ভা সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। যেখানেই লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই জরিমানা ও জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ঢাকা উত্তরকে ডেঙ্গু মুক্ত করার লক্ষ্যে প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চলে এই অভিযান চলবে।
“নগরবাসীর কাছে খোলা চিঠি প্রশাসক জানান, ডেঙ্গু মুক্ত নগর গড়ার আহ্বান জানিয়ে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি লেখা হয়েছে। চিঠিটি স্থানীয় প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক কর্মকর্তার মাধ্যমে জনগণের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু মুক্ত নগর গড়া সম্ভব নয়। ঢাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়েই আমরা ঢাকা উত্তরকে ডেঙ্গু মুক্ত করব। সবাইকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেট্রোরেলের পিলার থেকে অবৈধ পোস্টার উচ্ছেদের নির্দেশ
ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, “৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেট্রোরেলের পিলার থেকে অবৈধ পোস্টার উচ্ছেদের নির্দেশএ সময় শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মেট্রোরেলের পিলারে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাজনীতিবিদদের পোস্টার ও লিফলেট দেখে বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রশাসক। তিনি নগরের সৌন্দর্য রক্ষায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেট্রোরেলের সকল পিলারের গায়ে থাকা সকল ধরনের অবৈধ পোস্টার উচ্ছেদের কঠোর নির্দেশনা দেন।
ফুটপাত দখল মুক্ত করতে আর নোটিশ নয়, সরাসরি অভিযান ফুটপাত দখল প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রশাসক বলেন, “ফুটপাত জনগণের অধিকার। ফুটপাত দিয়ে নিরাপদে জনগণ যাতায়াত করবে, এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। যারা এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, তাদেরকে আমরা প্রথমে নোটিশ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।”
“এখন আর নোটিশ নয়, যেখানেই ফুটপাত দখল করা হবে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলবে এবং অবৈধ দখল মুক্ত করে জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলেও ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন,।
এ বিষয়ে কোনো ছাড় হবে না,” বলেন তিনি আরও বলেন, জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণের ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। সবার বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ- এই নীতিতে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশে থেকে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অংশীদার হবো, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠান শেষে মেট্রোরেলের নিচে দোকানদারদের ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার লক্ষ্যে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ বিন স্থাপন করা হয় এবং সবাইকে এই বিনে ময়লা ফেলার অনুরোধ করা হয়।
পরে প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ সচেতনতামূলক র্যালি বের হয়ে শেওড়াপাড়া থেকে মিরপুর-১০ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে মিরপুর-১০ ফলপট্টির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। প্রশাসক ঘোষণা দেন, আজ বিকেল থেকেই মিরপুর-১০ এর সকল অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে লাগাতার উচ্ছেদ অভিযান চলবে।
ডিকে































