আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের ছয় মাসে দেশটির সামরিক ব্যয় প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ও সামরিক অভিযানের মাত্রা অনুযায়ী প্রতি মাসে আরও ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় গবেষণা সংস্থা কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও)।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, ১ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধসংক্রান্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিস্থাপনে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। শুধু এ খাতেই ব্যয় হয়েছে ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
সিবিওর হিসাবে, যুদ্ধের তীব্রতা কম থাকলে প্রতি মাসে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার এবং জুলাইয়ের মতো উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযান চললে মাসে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে মূল্যস্ফীতি পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের তুলনায় ০ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে বলে সিবিও জানিয়েছে।

এদিকে যুদ্ধের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের মজুত নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সিবিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্রের মজুত কমে গেছে। তবে পেন্টাগন অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়ে সিবিওর মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে বলে দাবি করেছে।
সিবিওর হিসাবের আওতায় সাম্প্রতিক কিছু হামলার ব্যয় এবং যুদ্ধ পরিচালনায় নেওয়া ঋণের সুদ অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।
সূত্র: রয়টার্স































