নিজস্ব প্রতিবেদক, মিরপুর: রাজধানীর মিরপুর পীরেরবাগের ঐতিহ্যবাহী আলিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। সহকারী শিক্ষককে বেঁধে বেধরক মারধোর ও অব্যাহতি পত্রে জোর করে স্বাক্ষ্য নেয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে, তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বেতন, পরীক্ষা ফি, সেশন চার্জ, বিজ্ঞানাগার, খেলাধুলা, স্কাউট, গ্রন্থাগার ও বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন খাতের টাকা যথাযথভাবে ব্যাংক হিসাবে জমা, নিরীক্ষা ও অনুমোদন ছাড়াই ব্যয় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, অডিট কমিটি গঠন না করে কৃত্রিমভাবে অডিট প্রতিবেদন তৈরি, জাল রেজ্যুলেশন ও গোপন রেজ্যুলেশন বই তৈরি এবং লিখিত নোটিশ ছাড়াই খণ্ডকালীন শিক্ষকদের মৌখিকভাবে অব্যাহতি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
এসব অনিয়মে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম এবং ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দল মিরপুর থানার সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এলাকাবাসীর একাংশের ভাষ্য, তারা দুজন ঘনিষ্ঠ এবং যোগসাজশে এসব ঘটনা ঘটেছে।
সহকারী প্রধান শিক্ষক কিরন ময় দত্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও সাবেক সভাপতি বিএনপি নেতা ফিরোজের অপকর্মের বিরোধিতা করায় কিরন ময় দত্ত কে প্রধান শিক্ষকের রুমে হাত পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে এবং তার কাছ থেকে অব্যাহতি পত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী কিরণ ময় দত্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও মিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিষয়টি নিয়ে এলাকায় খুব চঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, “আমরা কখনো সভার কার্যবিবরণী দেখার সুযোগ পাই না। সব কিছু একক সিদ্ধান্তে হয়। আমরা দীর্ঘ ছয় মাস বেতন না পেলেও প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি ফিরোজ মিলে ব্যাংক একাউন্ট থেকে ১৩ লক্ষ টাকা উঠিয়ে নেন। প্রধান শিক্ষকের বেতন ২০ হাজার টাকা হলেও দুই বছরের মধ্যে তাহা ৭০ হাজার টাকায় উন্নতি করা হয়। স্কুলের উন্নয়ন না হলেও স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি ফিরোজের উন্নতি চোখে পড়ার মত হয়েছে। এই বিষয়ে আমরা প্রতিবাদ করার সাহস পাই না। কোন প্রতিবাদ করতে গেলেই বিএনপি নেতা ফিরোজের গুন্ডা বাহিনী দিয়ে আমাদেরকে হুমকি-ধামকি এমনকি শারীরিক লাঞ্ছিত করা হয়। ফিরোজের গুন্ডাবাহিনীদের মধ্যে ১) আলমাস ওরফে কসাই আলমাস, ২) মাসুদ ওরফে ঘাড় মোটা মাসুদ, ৩) রুবেল, ৪) পারভেজসহ একাধিক সন্ত্রাসদের নিয়ে স্কুলের মধ্যে অপকর্মে লিপ্ত আছেন এই ফিরোজ।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনা চলছে। একজন অভিভাবক বলেন, “যে প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে উঠছে, সেখানে আর্থিক স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।”
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও সভাপতি ফিরোজ আহমেদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক ও ফিরোজকে আইনের আওতায় এনে স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক অভিভাবকদের একজন আরও অভিযোগ করে বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ তার দুর্নীতি আড়াল করতে নতুন কমিটিতে তার স্ত্রীকে ম্যানেজিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, স্ত্রীর স্বাক্ষর ছাড়াই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্কুল ফান্ড থেকে বড় অংকের টাকা তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিভাবকরা নিরপেক্ষ অডিট এবং ব্যাংক হিসাব তলবের দাবি জানিয়েছেন।
একে































