দেশবার্তা ঢাকাঃ দেশের ৯ হাজারের বেশি ডাকঘরকে আধুনিক ও কার্যকর সেবাকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে অনেক সেবা পৌঁছানো কঠিন, সেখানেও ডাকঘরের উপস্থিতি রয়েছে। এসব ডাকঘরকে উন্নত করা গেলে মানুষের দোরগোড়ায় আরও কার্যকর ও আধুনিক সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানান, প্রচলিত ডাকসেবার পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা, আর্থিক সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম বাড়ানোর মাধ্যমে ডাক বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, সরকারের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নগদের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে সেবার মান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়াতে হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁও ডাক ভবনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নগদ কর্তৃক ডাক অধিদপ্তরকে রাজস্ব আয় হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এই নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে নগদ কর্তৃক ডাক অধিদপ্তরকে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ রাজস্ব আয়ের চেক হস্তান্তর করা হয়৷
নগদ প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ’র সভাপতিত্বে রাজস্ব আয় হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।
মন্ত্রী বলেন, আজকে নগদের এই অনুষ্ঠানে আমরা টাকা পাচ্ছি। সরকার তো শুধু খরচই করে, কিন্তু আজকে সত্যিই সরকারের জন্য এটি একটি আনন্দের দিন। কারণ কোথাও না কোথাও থেকে আমরা টাকা পাচ্ছি, প্রফিট পাচ্ছি।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের সরকার অলমোস্ট ছয় মাস পূর্ণ করতে যাচ্ছে। আগামী আগস্টে ছয় মাস হবে। এই ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় আমরা প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অনেকগুলোই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আজকে নগদের এই প্রফিটও আমি মনে করি আমাদের সরকারের একটি সফলতা ও বাস্তবতার প্রতিফলন।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। আর সেই প্রযুক্তি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য, শিক্ষার্থী কিংবা নারী উদ্যোক্তা, সবার জন্য সহজ ও নিরাপদ আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। এই খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবন এবং গ্রাহকবান্ধব সেবার বিস্তার ঘটলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডাক বিভাগের এই পরিবর্তন অত্যন্ত প্রয়োজন। একটু আগে সচিব মহোদয় বলেছেন, আমরা ডাক বিভাগকে কীভাবে আপগ্রেড করা যায়, কীভাবে নগদ এবং ডাক বিভাগকে আরও সমন্বিত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছি। প্রচলিত ডাকসেবার পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা, আর্থিক সেবা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি কার্যক্রম চালু হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডাকের মাধ্যমে দেশের যে–কোনো প্রান্তে খুবই সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে, যা মানুষের জীবনকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলবে। একটু আগে বলা হয়েছে, অন্যান্য পার্সেল সেবাদাতাদের তুলনায় আমরা ওয়ান-থার্ড দামে সেবা দিচ্ছি। আমরা ডাক বিভাগকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছি।
মাহবুব আনাম বলেন, ডাক বিভাগের প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের আস্থা রয়েছে। তাই ডাক বিভাগের নামে প্রতিষ্ঠিত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদও দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে নগদের কিছু কার্যক্রমের কারণে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। আমি ডাক বিভাগকে বলব, চুক্তি অনুযায়ী মনিটরিং জোরদার করতে হবে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং নগদকে একটি আস্থাশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। ডাক বিভাগের মতো নগদকেও সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসকে আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক হতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতকে পারস্পরিক আস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন উৎসাহিত হবে এবং জনগণ আরও উন্নত সেবা পাবে।
মন্ত্রী বলেন, আজকে ডাক বিভাগের সঙ্গে নগদ যে রাজস্ব ভাগাভাগি করছে, ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে তা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। আমি শুনেছি নগদের প্রায় নয় কোটি ক্লায়েন্ট রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় তিন কোটি নিয়মিত সক্রিয় গ্রাহক। এটি একটি বিশাল বিষয়।
তিনি বলেন, নগদ যেহেতু সরকারের প্রতিষ্ঠান, তাই মানুষের মধ্যে এর প্রতি একটা আস্থা রয়েছে। এজন্যই দিন দিন এর গ্রাহক বাড়ছে। প্রশাসক বলেছেন, সফটওয়্যারের আরও উন্নয়ন করা গেলে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়বে। আমি, সচিব মহোদয়, ডিজি সাহেব এবং সংশ্লিষ্টদের বলব, আমরা বসে দেখি কীভাবে নগদের সার্ভিস আরও উন্নত করা যায়। এখানে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কমিটমেন্ট থাকতে হবে। জনগণের আস্থা রয়েছে, কারণ এটি সরকারের প্রতিষ্ঠান। আমরা যদি আরও ভালো সেবা দিতে পারি এবং সফটওয়্যারকে আধুনিক করতে পারি, তাহলে নিশ্চয়ই নগদকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, আজকে প্রায় সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ ৩১৩ কোটি টাকা দিয়েছে। এটি বড় অঙ্ক। যেখানে বস্ত্র, পাটসহ অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান লোকসানে রয়েছে, সেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো, বন্ধ শিল্পগুলো চালু করতে হবে এবং লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।
সম্প্রতি নগদ বিক্রির গুঞ্জনের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন আগে দেখলাম একটি সংবাদে বলা হয়েছে, ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নাকি নগদ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা কখনোই এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। যারা এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেন, তাদের বলব, গুজবে কান দেবেন না। আমি আছি, সচিব মহোদয় আছেন, ডিজি সাহেব আছেন, প্রশাসক আছেন। আমাদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন, তারপর সংবাদ প্রকাশ করুন।
তিনি বলেন, আমরা একটি স্বচ্ছ সরকার। সাংবাদিক ভাইদের জন্য আমাদের দরজা সবসময় খোলা। আপনারা কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাহলে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না। কারণ আপনাদের সংবাদ থেকেই মানুষের ধারণা তৈরি হয়। তাই সঠিক সংবাদ প্রকাশ করুন, যাতে মানুষ সঠিক তথ্য জানতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, নগদকে আরও এগিয়ে নিতে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। খুব শিগগিরই আমরা আবার বসবো, কীভাবে নগদের সেবা আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করবো। সামনে আরও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস আসতে চাইছে। আসুক, প্রতিযোগিতামূলক বাজার থাকুক। যত বেশি প্রতিযোগিতা হবে, তত বেশি জনগণ উপকৃত হবে।





























