নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ। সারা দেশে এবারে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষা চলাকালে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকছে।
এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে প্রায় ৩ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার জন। সারা দেশের মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সূচি অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা শুরু হবে। লিখিত পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত এবং প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। এরপর ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সর্বাধিক ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অন্য বোর্ডগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৯ জন, কুমিল্লায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০৬ জন, যশোরে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮৯ জন, চট্টগ্রামে ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৭৯ জন, বরিশালে ৮১ হাজার ৮৩১ জন, সিলেটে ৮৯ হাজার ১৯০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭০১ জন এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৯ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।
অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার দাখিল পরীক্ষায় মোট ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জন এবং ছাত্রী ৩৩ হাজার ১৫১ জন।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির জানান, ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষা চলাকালে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে সম্পন্ন করতে আরও বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পরীক্ষা কাঠামো অনুযায়ী প্রতিটি বিষয়ে প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক অংশের পরীক্ষা হবে (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যতীত)। দুই অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। এমসিকিউ অংশের জন্য ৩০ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশপত্র সঙ্গে রাখতে হবে এবং পরীক্ষাকালীন সময়ে মোবাইল ফোন বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না এবং ওএমআর ফরমে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
এ ছাড়া পরীক্ষায় শুধু সাধারণ নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে এবং নির্ধারিত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে অংশ নেওয়া যাবে না।































