দেশবার্তা ডেস্কঃ রাজধানীর অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক হাব তেজগাঁও শিল্প এলাকা। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পুরো রাস্তা দখল করে বসানো হয়েছে পশুর হাট। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে ভেতরের অলিগলি সবখানেই এখন বাঁশের ব্যারিকেড আর ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের কড়া পাহারা। স্থবির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর গণমাধ্যম ঘেরা এই শিল্পাঞ্চল।
নেই সাধারণ মানুষের হাঁটা চলার উপায়ও।
ভুক্তভোগীরা জানান, আমার বাসা এখানে, আমারতো এখন পুরো হাতিরঝিল ঘুরে আসতে হবে। বিউটেক্স থেকে এই এলাকা সব বন্ধ। ইমার্জেন্সি রোগীর জন্য যে অক্সিজেন নেব, তা নিতে গেলেও এখন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অফিসে যে যাব প্রাইভেট গাড়ি বের করা যাচ্ছে না, এখানে হেঁটে আসা লাগছে।
পরিচয় গোপন করে সবগুলো প্রবেশ মুখ দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন স্টার নিউজের প্রতিবেদক। কিন্তু ব্যর্থ হন তিনি।
সড়কে গাড়ি প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তেজগাঁও হাটের ভলান্টিয়াররা জানান, এই রোডে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার ক্যাপাসিটি নাই। গরুগুলো তো সব রাস্তার ভেতরে। যদি বড় কোনো গাড়ি ঢুকে, যেমন আজ সকালে পিকাপের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে গরুটা। আবার যদি একটি গরু, গাড়ির মধ্যে হুট করে অ্যাটাক করে তাহলে গাড়ির বড় ড্যামেজ হয়ে যাবে।
ইজারাদারের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গে অভিযোগ এনেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।
পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান জানান, আমাদের যেই জায়গায় হাট থাকার কথা তার বাইরে হাট বসলেই তো ইজারার শর্ত লঙ্ঘন। এই নিয়ে যেহেতু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না, ইচ্ছামতো সম্প্রসারণ হচ্ছে। যদি সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন কঠোর হতো, যেটা প্রাইমার্ক এরিয়া তার বাইরে কোনোভাবেই যাওয়া যাবে না। তাহলে কিন্তু ইজারাদাররাও এই মেসেজটি পেতেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শিল্প এলাকায় কোরবানির হাট ইজারা দেয়াটাই, দায়িত্বশীলদের কাণ্ডজ্ঞানহীন।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদ জানান, এখানে প্রায় দুইশোর ওপরে ন্যাশনাল কোম্পানি আছে, অনেকগুলো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি আছে। এখানে একটি গরুর হাট বসানো খুবই দুর্ভাগ্যজনক। ঢাকা শহরের ভেতরে কোনো রকম হাট বসানো ঠিক না।
এবার কোরবানির পশুর বেচাকেনায়, ঢাকার দুই সিটিতে ১৩টি করে মোট ২৬টি হাটের ইজারা দেয়া হয়েছে।






























