আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সামরিক প্রস্তুতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। খামেনি কেবল ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্ব দিতেই নয়, তিনি দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক চেহারার পথ নির্ধারণ করতেন। তাঁর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার ঝড় তোলে, তবে একই সঙ্গে ইরানের অভ্যন্তরে নতুন এক শক্তি ও প্রতিরোধের রূপও ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে।
হামলার জবাবে তেহরান দৃশ্যত চারদিকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং আত্মরক্ষার প্রজ্ঞার প্রমাণ দিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেবল প্রতিশোধপরায়ণ নয়, বরং সুসংহত ও পরিকল্পিত রূপে প্রতিরোধ প্রদর্শনের সক্ষমতা রাখে, যা দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে।
এই ঝড়ের কেন্দ্রে রয়েছেন ইরানের সাধারণ মানুষ। গত ডিসেম্বরে হাজার হাজার ইরানি শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমে সরকারের নীতির প্রতি মত প্রকাশ করেছেন। যদিও কিছু সীমিত পরিস্থিতিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে সাধারণ জনগণ এখনও দৃঢ়ভাবে দেশের ভেতরে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিদেশি বাহিনীর হুমকির মধ্যেও ইরানি জনগণ স্বতঃসিদ্ধভাবে দৃঢ়তা দেখাচ্ছে। খামেনির মৃত্যুর পরও দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রতিরোধমূলক নীতি কার্যকর রয়েছে। ইরান প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত এবং দেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য একগঠন শক্তি প্রদর্শন করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় হরমোজগান প্রদেশ, মিনাব–এর মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান সরকার দ্রুত পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদে শিক্ষা ও জীবনযাত্রা চালিয়ে যেতে পারছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাইরের চাপ সাময়িকভাবে শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে, কিন্তু ইরান দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী ও সুসংহত নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করতে সক্ষম। বিশেষ করে ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)–এর সংহত কাঠামো দেশকে নিরাপদ রাখার জন্য প্রস্তুত।
বিকল্প নেতৃত্ব না থাকলেও ইরান সরকারের অভ্যন্তরীণ শক্তি, জনগণের সমর্থন এবং কুর্দি ও অন্যান্য সম্প্রদায়গুলোর সুশৃঙ্খল প্রতিরোধ ক্ষমতা দেশটিকে অস্থিতিশীল হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করছে। কুর্দি জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সদস্য হানা ইয়াজদানপানা উল্লেখ করেছেন, “জনগণ এখন নিজেদের দেশ রক্ষা করতে আরও সচেতন। অতীতে ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই, আমরা একত্রে শক্তিশালী।”
ইতিহাসবিদ ও লেখক আরাশ আজিজি বলেন, বাইরের চাপে ইরানকে দুর্বল করা যায় না, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও জনগণই স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেশকে আরও সুসংহত ও প্রতিরোধশীল করে তুলবে।”
ইরান কেবল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ প্রদর্শন করছে না, বরং দেশটির অভ্যন্তরীণ শক্তি, একত্রিত জনগণ এবং সুসংহত সামরিক কাঠামো ভবিষ্যতে দেশকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে। ইরানের জনগণ, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী একত্রে দেশকে স্থিতিশীল, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তথ্যসূত্র : দ্য ইনডিপেনডেন্ট































