নিজস্ব প্রতিবিদক: ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। কোথাও দীর্ঘ লাইন, কোথাও ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড-এমন পরিস্থিতিতে সার্রণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃত সংকটের চেয়ে আতঙ্ক ও অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতাই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে এবং এর ফলে বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যুদ্ধ শুরুর পর এবং সরকার যখন তেল ব্যবহারে ভোক্তাদের সাশ্রয়ী হতে আহ্বান জানায়। এর পর থেকেই গত এক মাসে বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ আকারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত। ফিলিং স্টেশনে তেল পাওয়া না গেলেও রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলি ও জেলা শহরগুলোর বাজার ও দোকানে বেশি দামে অবৈধভাবে সংগ্রহকৃত জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। এক শ্রেণির মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী ফিলিং স্টেশনের সঙ্গে চুক্তি করে কালোবাজারে তেল বিক্রি করছেন।
খোদ ঢাকা শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় পেট্রোল পাম্পের জ্বালানি কিনে চড়া দামে খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ কেউ বেশি মূল্য পাওয়ার আশায় অবৈধভাবে বাসাবাড়ি, গ্যারেজ এবং গুদামে তেল সংরক্ষণ করছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যে, তেলের অবৈধ মজুতদারি রোধে গত ৩০ মার্চ দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালিত হয়। এ ব্যাপারে ১৯১টি মামলা করা হয়। তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়।
এছাড়া গত ৩ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিচালিত হয় ৩ হাজার ৫৫৯টি অভিযান। এতে ১ হাজার ২৪৪টি মামলা করা হয়। ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার অবৈধভাবে মজুত জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী গতকাল সচিবালয়ে জানান, উল্লিখিত পরিসংখ্যানে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জ্বালানি মজুতের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, সরবরাহব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। তিনি বলেন, কিছু গ্রাহক বিভিন্ন পাম্প থেকে বারবার তেল সংগ্রহ করছেন, যা সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। যারা অবৈধ মজুতদারির তথ্য দিচ্ছে, তাদের ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।































