দেশবার্তা ঢাকা: এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গতকাল দিনব্যাপী চরম গ্যাসসংকটে ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঢাকা ও আশপাশ এলাকায় তীব্র গ্যাসসংকট দেখা যায়। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, গতকাল শুধু তিতাসের আওতাভুক্ত এলাকায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি ছিল। পরিস্থিতি পুরো স্বাভাবিক হতে আরও দুই-তিন দিন লাগবে। গ্যাসসংকটে বাসাবাড়ির রান্নার কাজ ব্যাহত হয়; একইভাবে ঢাকার সিএনজি স্টেশনগুলোতে ছিল গাড়ির দীর্ঘ লাইন।
সংকটের কারণে গতকাল সকাল থেকেই ঢাকার অধিকাংশ এলাকার বাসাবাড়ির চুলায় গ্যাসের চাপ ছিল না। পুরোনো কিছু লাইনে সামান্য গ্যাসের চাপ থাকলেও তা দিয়ে রান্নাসহ প্রয়োজনীয় কাজ সারতে বেশ বেগ পেতে হয়। আবার কোথাও গ্যাসের চুলায় আগুন জ্বালানো যায়নি। গ্যাসের চুলা জ্বালাতে না পেরে গৃহিণীদের অনেকে ইলেকট্রিক চুলা, রাইস কুকার ও মাটির চুলায় রান্নার কাজ সারেন।
কেউ ফুড ডেলিভারি অ্যাপ দিয়ে খাবার অর্ডার করে খান। কেউ রেস্টুরেন্ট গিয়েও খাবার খান। মিরপুর শ্যাওড়াপাড়ার বাসিন্দা কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘ভোরে ছেলেমেয়েদের স্কুলের টিফিন বানাতে গিয়ে দেখি গ্যাসের চাপ একেবারেই নেই। পরে দোকান থেকে কেক কিনে ওদের টিফিনে দিয়েছি। দুপুরে রাইস কুকারে খিচুড়ি রান্না করে কোনোরকম চালিয়েছি।’
গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, দিনদিন গ্যাসসংকট চরম আকার ধারণ করেছে। কিন্তু প্রতি মাসেই তারা গ্যাসের লাইনের বিল দিচ্ছেন। আবার ইলেকট্রিক চুলা কিনে খরচও বেড়েছে। শুধু আবাসিকের গ্রাহকই নন, গ্যাসসংকটে ভোগান্তি বেড়েছে নগরীর সিএনজি স্টেশনগুলোতেও।
রাজধানীর বেশির ভাগ স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না পাওয়ায় অনেক স্টেশনে স্বাভাবিকভাবে গাড়িচালকরা গ্যাস নিতে পারেননি। সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ি নিয়ে বের হতে পারেননি চালকরা। এতে ঢাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাসংকট তৈরি হয়। মিরপুর ১২ নম্বর সিরামিক ওয়ার্কস সিএনজি ফিলিং স্টেশনে বেলা ২টায় প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
সিএনজিচালক আলফাজ মিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সকাল থেকে গ্যাস নিতে কয়েকটি স্টেশনে ঘুরেছি কিন্তু কোথাও গ্যাসের চাপ নাই। এক চালক বলল এখানে গ্যাস পেতে পারি। কিন্তু এসে দেখছি দীর্ঘ লাইন।’
তিতাসের পরিচালক (অপারেশন) সাইদুল হাসান বলেন, ‘শুধু তিতাসের আওতাভুক্ত এলাকায় আজ (সোমবার) দিনভর আড়াই শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি ছিল। সকালে এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের কাজ ঠিক হলেও পরিস্থিতি পুরো স্বাভাবিক হতে দুই থেকে তিন দিন লেগে যাবে। এ সময় গ্যাস সরবরাহ থাকলেও চাপ থাকবে না।
মঙ্গলবার (আজ) সকাল থেকে পরিস্থিতি সামান্য ভালো হলেও পূর্ণ সরবরাহ শুরু হতে কিছুটা সময় লাগবে।’































