খুলনা সংবাদদাতা: খুলনা কৃষি অঞ্চলের কৃষকরা শীত মৌসুমে আলু চাষে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পর্যন্ত এ অঞ্চলে ৭৮ আলু চাষ শেষ হয়েছে। এদিকে, বগুড়ায় এ মৌসুমে সবজির পর এবার আলু রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
প্রতিনিধিদের খবরে বিস্তারিত, খুলনা কৃষি অঞ্চলের কৃষকরা শীত মৌসুমে আলু চাষে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পর্যন্ত এ অঞ্চলে ৭৮ আলু চাষ শেষ হয়েছে। এদিকে, বগুড়ায় এ মৌসুমে সবজির পর এবার আলু রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
ওদিকে খুলনা এবং অঞ্চলের অন্যান্য জেলার স্থানীয় বাজারে আগাম জাতের আলু আসতে শুরু করেছে। অন্যদিকে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে, নতুন কাটা সবজি তুলনামূলকভাবে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, এর ফলে কৃষকরা ভালো লাভ পাচ্ছেন।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষক হাসান আলী, সোলায়মান গাজী, হারুন-অর-রশিদ এবং সালমান রহমান জানান, আমন ধান কাটার পর আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তারা ৩ হাজার ৫৯১ একর জমিতে ৭৮ হাজার ৪৭ টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে খুলনায় ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছিল, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার ৬০১ টন। আজ পর্যন্ত কৃষিক্ষেত্রে ৬৭ শতাংশ অর্জন হয়েছে।
বাগেরহাটে ৫৭৯ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছিল এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৪৬৬ টন। কৃষিক্ষেত্রে অর্জন ৬৮ শতাংশ।
সাতক্ষীরায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭ হাজার ১৭০ টন। কৃষিক্ষেত্রে সাফল্য ৮৩ শতাংশ।
নড়াইলে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৭ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৮১০ টন। কৃষিক্ষেত্রে সাফল্য ১০১ শতাংশ।
এছাড়াও আলু চাষ দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ডিএই-এর তথ্য অনুসারে, খুলনায় কমপক্ষে ৪৬৯ হেক্টর, বাগেরহাটে ৩৯৫ হেক্টর, সাতক্ষীরায় ১ হাজার ৮৫৬ হেক্টর এবং নড়াইলে ৮৮ হেক্টর জমিতে আলু চাষ সম্পন্ন হয়েছে।
ডিএই-এর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা ২ হাজার ৮০৮ হেক্টর জমি আলু চাষের আওতায় এনেছেন। এই অঞ্চলের চারটি জেলার মূল ভূখণ্ড এবং লবণাক্ত জলপ্রবণ এলাকায় আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত আলুর বীজ বপন চলবে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নভেম্বরের শেষের দিকে এবং জানুয়ারির শুরু থেকে কৃষকরা একই জমিতে স্বল্পমেয়াদী আমন ধান কাটার পর চাষ করা আগাম জাতের আলু সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছেন।
‘এই মৌসুমে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মুখেও ভালো ফলন নিশ্চিত করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা আলু ক্ষেতের সঠিক পরিচর্যার জন্য কৃষকদের সর্বশেষ প্রযুক্তি সরবরাহ করছেন,’ জানান তিনি।
খুলনা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (কেসিসিআই) প্রাক্তন পরিচালক জেসান ভুট্টো ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং আলু চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উৎসাহিত করতে আলুজাত পণ্য সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য আরও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান: সবজি উৎপাদনে জন্য পরিচিত বগুড়া থেকে এবার আলু রফতানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি ও কাঁচামরিচের পর চলতি মৌসুমে জেলায় উৎপাদিত আলু মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ সাতটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকাররা এ মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার টন আলু রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ছাড়াও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও নেপালে বগুড়ার আলু ও অন্যান্য সবজি পাঠানো হচ্ছে। কৃষকদের কাছ থেকে বিশেষ এজেন্টের মাধ্যমে এসব সবজি সংগ্রহ করে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে জাহাজে করে পৌঁছে দেওয়া হয় বিদেশের বাজারে।
উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের ‘সবজির জেলা’ বলা হয়। কৃষি বিভাগ জানায়, শীত মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৮ প্রজাতির এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রায় ২০ প্রজাতির সবজি চাষ হয়। এর মধ্যে আলু অন্যতম প্রধান ফসল। শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ, শেরপুর, কাহালু ও গাবতলী উপজেলায় ব্যাপক আকারে আলুর চাষ হয়ে থাকে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে বগুড়ায় ১৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়। উৎপাদন হয় প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টন। চলতি ২০২৫-২৬মৌসুমে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় তিন লাখ টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, এর আগেও বগুড়া থেকে আলুসহ বিভিন্ন সবজি বিদেশে পাঠানো হয়েছে। নিয়মিতভাবে রপ্তানি অব্যাহত থাকলে কৃষকেরা আরও লাভবান হবেন। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।































