মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জে ইটভাটার ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি, ফলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সরজমিনে দেখা যায়, জেলার তিনফসলের জমির মধ্যে গড়ে উঠেছে কয়েকটি ইটভাটা। এসব ইটভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানো হয়, যার কালো ধোঁয়া ফসলের উপর পড়ে গাছের ফুল ও ফল নষ্ট করছে।
জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এবং ফসলের ক্ষতির কারণে কৃষকরা অতিষ্ট। তারা জানান, প্রতিবছরই ধোঁয়ার কারণে ফলন নষ্ট হচ্ছে, তাও ক্ষতিপূরণ ছাড়া। এর ফলে ফলন বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, ইটভাটার মালিক বা কর্তৃপক্ষকে কিছু বললে তারা চাপ সৃষ্টি করে। ফলে অনেক কৃষক অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে এবং ফসলের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
আরিফ নামে এক কৃষক বলেন, প্রতিবছরই তিন বিঘা জমিতে ফসল হচ্ছে না, ইটভাটার ধোঁয়া ও আগুনে সব ধ্বংস হয়ে যায়।
মূলজান গ্রামের আসিফ নামের কৃষক জানান, শুধু ফসলই নয়, গাছের ডাবও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধোঁয়ার কারণে বাড়িতে বসাও সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতি খুব কঠিন। কার কাছে বলব? অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না।
ইটভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ হলেও মালিকরা নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন। সোহেল নামে একজন ইটভাটার মালিক বলেন, আগুন ধরাতে কাঠ ছাড়া সম্ভব নয়। অন্যান্য ইটভাটার মালিকরাও একই অজুহাত দেখাচ্ছেন এবং অবাধে কাঠ পোড়াচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শাজাহান সিরাজ বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা অভিযান চালাচ্ছেন, তবে ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া কার্যকর ব্যবস্থা সম্ভব নয়।
জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিযান চলছে। জেলা পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় ১২৪টি ইটভাটা রয়েছে, যার মধ্যে ২১টি অবৈধ।































