দেশবার্তা প্রতিবেদকঃ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ২১ বছর পর সিলেটে সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। দলের নেতাকর্মীদের জন্য স্বাধীনভাবে জনসভায় যোগ দেওয়া হয় না বহু বছর। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মঞ্চে আসবেন তারেক রহমান। তাই একটি মুহূর্তও যেন মিস করতে চান না তারা।
দূরের উপজেলাগুলোর নেতাকর্মীরা তাই একদিন আগেই চলে এসেছেন সমাবেশ স্থলে। শীতের রাতে খোলা আকাশের নিচে শামিয়ানার নিচে রাত পার করছেন। কিন্তু কারো চেহারায় ক্লান্তির ছাপ নেই। বুধবার মধ্যরাতে সিলেট নগরের চৌহাট্টা পয়েন্ট সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে এমন চিত্র দেখা গেছে।
কেউ চাদর মুড়ি দিয়ে জড়সড় বসে, কেউ কেউ আবার দল বেঁধে আড্ডায় মশগুল। কেউ হাঁটাহাঁটি করছেন। থেমে নেই নেতাকর্মীদের স্রোত। কিছুক্ষণ পর পর বাতাস কাঁপিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে ঢুকছেই মাদ্রাসা মাঠে।
মাঠে ঘুরে ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা, যেসব উপজেলার দূরত্ব বেশি, সেসব জায়গা থেকে নেতাকর্মী, সমর্থকরা ঝুঁকি না নিয়ে একদিন আগেই চলে এসেছেন। এর মধ্যে জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাটের লোকজনই বেশি।
সিলেট জেলার বাইরে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার মানুষও চলে এসেছেন সিলেটে। যারা সামর্থবান তারা হোটেল মোটেলে উঠেছেন, যাদের আত্মীয় স্বজনের বাড়িঘর আছে নগরে তারা সেখানে উঠেছেন। আর যাদের এই সুবিধার কোনোটিই নেই তারা আশ্রয় নিয়েছেন খোলা মাঠে।
নিবেদিত প্রাণ তৃণমূলের এসব নেতাকর্মীদের থাকার জন্য কিছুটা উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন আয়োজকরা। মাদ্রাসা মাঠের একপাশে বড় বড় শামিয়ানা টানিয়ে তারা রাতযাপনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যেগুলো সকালে সমাবেশ শুরুর আগে এসব শামিয়ানা খুলে ফেলা হবে।
জৈন্তাপুর উপজেলার কিবরিয়া মিয়া বললেন, ‘সকালে আসলেও হতো। কিন্তু যদি কোনো কারণে আসতে দেরিয়ে হয়ে যায় সে কারণে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে একদিন আগেই চলে এসেছি।’ খোলা আকাশের নিচে রাত যাপনে কষ্ট হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাকুল্যে একটি রাতই তো। না ঘুমালে এমন ক্ষতি কি? কিন্তু আমাদের প্রিয় নেতা তো রোজ রোজ আসবেন না।’
সুনামগঞ্জের টেংরা টিলা এলাকা থেকে এসেছেন বিএনপি কর্মী আছই মিয়া। তিনি বলেন, ‘সকালে সুনামগঞ্জ থেকে রওয়ানা দিলে টাইমমত পৌঁছতে পারব কিনা সন্দেহ আছে। যে কারণে একদিন আগেই আমিসহ বেশ কয়েক জন চলে এসেছি। শীতের সময় হলেও তাই তেমন ঝামেলা হচ্ছে না।’
এই মাঝরাতেও বসে নেই বিক্রেতারা। মাঠের বাইরে বিএনপির পতাকা, জিয়াউর রহমানের ছবিসংবলিত মাফলার, প্লাস্টিকের ধানের শীষ ও তারেক রহমানের ছবিসংবলিত ব্যাজ বিক্রি করছেন অনেকে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, ‘আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সফল একটি সমাবেশ করার অপেক্ষায় আছি আমরা।’ নেতাকর্মীদের রাত্রিযাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক নেতাকর্মী থাকেন সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে। তাদের অনেকে আগের দিন চলে এসেছেন। বিশেষ করে জকিগঞ্জ, গোয়াইনঘাটের মতো এলাকার মানুষ চলে এসেছেন বুধবারেই। রাতে তারা থাকবেন। তাদের থাকার সুবিধার জন্য মাঠের একপাশে শামিয়ানা টানানো হয়েছে। তারা রাত্রে সেখানে থাকবেন। আবার সকালে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হবে।’
তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৪ সালে সিলেটে আসেন। দীর্ঘ ২১ বছর পর তিনি সিলেটে এসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবেন। বিএনপির প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও প্রতিবার নির্বাচনের আগে মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি সিলেটে প্রথম নির্বাচনী জনসভা করতেন। সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ১৩০ জন অরাজনৈতিক তরুণদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সমাবেশস্থল সিলেট আলীয়া মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে তিনি আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। সেখানে ভাষণ দেবেন তিনি। সেখান থেকে তিনি মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন। মৌলভীবাজার জেলার শেরপুরের আইনপুর মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে তিনি বক্তব্য দেবেন। বেলা একটা থেকে দুইটার মধ্যে তিনি সেখানে পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাসির রহমান বলেন, ‘একটা থেকে দুইটার মধ্যে দলের চেয়ারম্যান এসে পৌঁছাবেন বলে আশা করছি। সমাবেশে লাখের অধিক মানুষের সমাবেশ ঘটবে।’
মৌলভীবাজারের সমাবেশ শেষ করে তিনি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানা সংলগ্ন মাঠে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এরপর তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখানেও সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।































