দেশবার্তা প্রতিবেদকঃ মিরপুরে জামায়েত কর্মীরা ভোটারদের এনআইডি কার্ড আর বিকাশ নাম্বার চাওয়ায় বাসার লোকজনের সাথে জামায়াতের নারী কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন পীরেরবাগ আল মোবারক মসজিদের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের প্রায় ১৬ জন কর্মী আহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু সময় ওই এলাকায় বেশ উত্তেজনা বিরাজ করে।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বর্তমানে এলাকাজুড়ে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছিলেন।
এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর উত্তর কাফরুল থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম মিলন বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা বাসা বাড়িতে গিয়ে তাদের ভোটার আইডি কার্ড, বিকাশ নাম্বার চাচ্ছেন, কয়েকজন জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ঢুকে এনআইডি কার্ড বিকাশ নাম্বার লিস্ট করছেন। জামায়েত কর্মীরা এনআইডি কার্ড আর বিকাশ নাম্বার চাওয়ায় বাসার লোকজনের সাথে জামায়াতের নারী কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
তিনি বরেন, বাড়িওলাদের তোপের মূখে নারী কর্মীরা ওখান থেকে পালিয়ে যান, পরবর্তীতে মাগরিবের নামাজের কিছুক্ষণ আগে জামায়তের বিভিন্ন এলাকা থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মসজিদের সামনে অবস্থান নেন এবং ওখানে অবস্থানকৃত বিএনপির একজন নেতার উপরে হামলা করেন, পরবর্তীতে এলাকাবাসীসহ বিএনপি নেতা কর্মীরা জামায়াতের নেতাকর্মীদেরকে ঘিরে ফেলে তখন তারা দৌড়ে মসজিদে আশ্রয় নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী একজন দোকানদার বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা এখানে অতর্কিতভাবে একজন বিএনপি নেতাকে মারধরের কারনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং এলাকাবাসীসহ সকলে মিলে তাদেরকে ঘিরে গণধোলাই দেয়। পরবর্তীতে তারা জীবন বাঁচাতে মসজিদে আশ্রয় নেয়।
তিনি আরো বলেন, এখানে যারা অবস্থান নিয়েছিল তারা সবাই অপরিচিত লোকজন তাই এলাকার সকলে মিলে তাদেরকে ঘিরে ফেলে, তারা আতঙ্কিত হয়ে মসজিদে আশ্রয় নেয়, অনেকে দৌড়ে পালিয়ে যায় বিভিন্ন বিল্ডিংয়ের ভিতরে।
আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বক্তব্যে জানান, এলাকার জনগণ জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসী নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। অন্য এলাকা থেকে এসে আমাদের এলাকার মানুষজনের গায়ে হাত দিয়েছে, তখন এলাকার জনগণ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা মিলে জামায়াতের ক্যাডার বাহিনীদেরকে গণধোলাই দেয়। তাৎক্ষণিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। কাফরুল থানা জামায়াতের আমির আব্দুল মতিন সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এলাকা ত্যাগ করেন।
এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অনেক নেতাকর্মীরা আহত হয়, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।































