আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রায় ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতেই তেহরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হোয়াইট হাউসে এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ইরান সরকার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যেদিন ওই বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তার আগেই দণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি মিত্র দেশের চাপ এ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ইরান। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর চার দশকের বেশি সময়ে এমন বিস্তৃত ও তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়েনি দেশটির শাসকগোষ্ঠী। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকটের মূল কারণ ইরানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুরবস্থা।
বছরের পর বছর অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় মুদ্রার এই চরম দুরবস্থার প্রভাবে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে মারাত্মক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের অধিকাংশ শহর ও গ্রামে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে অনেক এলাকাতেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির।
বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধসহ কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীকেও মাঠে নামানো হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, সংঘর্ষ ও সহিংসতায় এখন পর্যন্ত বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এদিকে, আন্দোলনের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইরানে সরাসরি মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা আপাতত কম।































