দেশবার্তা ডেস্কঃ জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও খিলগাঁওয়ে দুজনকে গুলি করে হত্যা এবং দুজনকে আহত করার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও বর্তমানে পলাতক ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের প্রভাব এখনো রাজধানীর মিরপুরে কার্যকর রয়েছে, এমন অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, হাবিবুর রহমানের শাশুড়ি শামসুন্নাহার মেরীর পক্ষে বিচারাধীন একটি জমি দখল, প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পুলিশকে ব্যবহার করে মামলা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিরপুর থানা পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মিরপুরের শেওড়াপাড়ার ৩৭২/৪/১ নম্বর হোল্ডিংয়ের প্রায় ৬ কাঠা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। জমির মালিক দাবি করা রাজা মিয়ার পক্ষের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ডিএমপির কমিশনার থাকাকালে হাবিবুর রহমান তার শাশুড়ি শামসুন্নাহার মেরীর পক্ষে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখলে নেন। এ সময় প্রকৃত মালিককে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারসহ ঢাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রাজা মিয়ার কাছ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নেওয়া ইব্রাহিমকে গুমের চেষ্টাও করা হয়েছিল এবং সে সময় মিরপুর থানা পুলিশকে ব্যবহার করা হয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে রাজা মিয়া ও ইব্রাহিম দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন বলে তাদের দাবি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা পুনরায় জমির নিয়ন্ত্রণ নেন। তবে এরপর থেকেই শামসুন্নাহার মেরী ও তার বোন শামসুন্নাহার বেবীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও চাপ অব্যাহত ছিল।
তাদের অভিযোগ, সর্বশেষ গত শনিবার (২৭ জুন) ভোরে মিরপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় শামসুন্নাহার মেরী দলবল নিয়ে বিচারাধীন ওই জমির দখল নেন। এতে বাধা দিতে গেলে রাজা মিয়ার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি পাওয়া প্রতিনিধি ইব্রাহিমকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, জমির দলিল এবং মামলার বিচারাধীন থাকার কাগজপত্র দেখানো হলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। সারারাত থানায় আটকে রাখার পর রোববার (২৮ জুন) তাকে ‘জমি দখলের চেষ্টার’ অভিযোগে মামলায় আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাজা মিয়া ও ইব্রাহিমের দাবি, পুরো ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান। তারা অভিযোগ করেন, দেশ ছেড়ে পলাতক থাকলেও পর্দার আড়াল থেকে তিনি প্রভাব খাটিয়ে শাশুড়ির পক্ষে সবকিছু পরিচালনা করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “শামসুন্নাহার মেরী ও তার বোন আগে থেকেই জমির দখলে ছিলেন। ইব্রাহিম সেখানে অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সঠিক নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, শামসুন্নাহার মেরী যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের শাশুড়ি-সে বিষয়টি তার জানা নেই।
এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এমন অবস্থায় জমির দখল পরিবর্তন এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
































