দেশবার্তা ঢাকাঃ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণমাধ্যম কোনো শাসকের মুখপত্র নয়, কোনো দলের সম্পদ নয়, কোনো ক্ষমতাকেন্দ্রের হাতিয়ার নয়। গণমাধ্যমের আনুগত্য কেবল সত্যের প্রতি, জনগণের প্রতি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশের সংবাদপত্রের কালো দিন উপলক্ষে নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি লেখেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়, রাষ্ট্রক্ষমতা কীভাবে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে পারে তার একটি নির্মম স্মারক। ১৯৭৫ সালের এই দিনে শেখ মুজিবের বাকশাল সরকার মাত্র চারটি সংবাদপত্র রেখে দেশের বাকি সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল। হাজার হাজার সাংবাদিক, মুদ্রণকর্মী ও সংবাদপত্র কর্মী রাতারাতি কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। সবচেয়ে বড় কথা, স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল জাতির স্বাধীন কণ্ঠ।
এনসিপির এই নেতা লেখেন, বাকশালের পতনের পরও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বারবার আঘাতের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ, ভিন্নমতকে দমন, সমালোচনামূলক সাংবাদিকতাকে প্রভাব খাটিয়ে নিরুৎসাহিত করা এবং রাষ্ট্রের অনুগত তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার অসংখ্য ন্যাক্কারজনক ঘটনা দেশ-বিদেশে আলোচিত হয়েছে।
তিনি আরও লেখেন, সরকার পরিবর্তনের পরও যদি সেই সংস্কৃতির পরিবর্তন না হয়, তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। বর্তমান সরকারকেও মনে রাখতে হবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা, পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমকে ভাগ করা, কিংবা সমালোচনাকে শত্রুতা হিসেবে দেখা এসবই সেই পুরোনো পথের পুনরাবৃত্তি। যে রাষ্ট্র সত্যকে ভয় পায়, সে রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত জনগণকেও ভয় পায়। আর যে সরকার স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে সহ্য করতে পারে না, সে সরকার মুখে গণতন্ত্রের ভাষা বললেও গণতন্ত্রের চর্চা করে না।
আসিফ মাহমুদ পোস্টে লেখেন, সংবাদপত্রের কালো দিবসে আমরা শুধু ১৯৭৫-এর বাকশালের একনায়কতন্ত্রকে ঘৃণাভরে স্মরণ করি না; আমরা সতর্ক করি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব সরকারকে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে ইতিহাসের এই কালো দিনে আমরা দৃঢ়ভাবে স্মরণ করি; গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর যে কোনো আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।































