দেশবার্তা ঢাকাঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে ঈদযাত্রার শুরুতেই রাজধানী ছাড়ার প্রতিটি পথে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। শুক্রবার সাধারণ সময়ে যে পথ পার হতে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে, ঈদযাত্রার শুরুতে সেই পথ পার হতেই লাগছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দিনভর যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে বিভিন্ন পয়েন্ট স্থবির হয়ে পড়ে।
তীব্র গরমের মধ্যে বাসের ভিতরে থাকা শিশু ও বৃদ্ধদের ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি হওয়া এবং সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় দুপুরের পর যাত্রীর চাপ আরও বাড়ে। সায়েদাবাদ টার্মিনালে কুমিল্লার যাত্রী সাদমান আদিলের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের।
সাদমান আদিলের বর্ণনায়, রাজধানীর সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে তিশা ট্রান্সপোর্ট বাসে ওঠেন। বাসটি বেলা সাড়ে ১১টায় টার্মিনাল থেকে যাত্রা শুরু করে। টার্মিনাল থেকে বের হতেই শুরু হয় যানজট। এই যানজটে যাত্রাবাড়ী হয়ে কাজলা বাস স্টপ পার হতেই সময় লাগে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট। এরপর সাইনবোর্ড, শিমরাইল ও কাঁচপুর এলাকায় যানজটে পড়েন। শুধু কাঁচপুর পার হতেই সময় লাগে দুই ঘণ্টা। তীব্র গরমে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা বাসে বসে ক্লান্ত হয়ে যান তিনি। যদিও কাঁচপুরের পর আর যানজটে পড়েননি তিনি।
সায়েদাবাদে কথা হয় চাঁদপুরগামী আল আরাফার বাসচালক রাজু আহম্মেদের সঙ্গে। তিনি জানান, হাইওয়েতে এখন পর্যন্ত বড় কোনো জ্যাম না থাকলেও ঢাকার ভিতর থেকে বের হওয়াটাই সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। টার্মিনাল থেকে বের হয়ে মূল সড়কে উঠতেই গাড়ির ইঞ্জিন গরম হয়ে যাচ্ছে। শুধু কাঁচপুর পার হতেই চলে যায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। একই অবস্থা ডেমরা পার হতেই। এই সড়ক দিয়ে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলার বাস যাতায়াত করে।
বিশেষ করে মিয়ামি, এয়ার এশিয়া, লাল সবুজ, স্টার লাইনসহ টঙ্গী থেকে এসব জেলায় যাতায়াত করে। এই বাসগুলো রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে যানজটে পড়ে। বিশেষ করে বনশ্রী পার হয়ে মেরাদিয়া বাজার, মোস্তমাঝি, আমুলিয়া ও ডেমরায় যানজটে বেশি পড়ছে। কারণ হিসেবে যাত্রীরা বলছেন, মোস্তামাঝি ও আমুলিয়ায় পশুর হাট বসানোর কারণেই দীর্ঘক্ষণ যানজটে পড়তে হচ্ছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা থেকে বের হওয়ার প্রধান প্রধান পয়েন্টেই যানবাহনের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর।
বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী হয়ে গাজীপুর পর্যন্ত গাড়ির চাকা যেন নড়ছেই না। গাজীপুরের চন্দ্রা মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত এই জটলার কারণে উত্তর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের যাত্রীদের যাত্রা শুরুতেই বড় ধাক্কা খেতে হয়েছে। গাজীপুর পার হতে একেকটি দূরপাল্লার বাসকে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট পোস্তগোলা ও বাবুবাজার বুড়িগঙ্গা ব্রিজের মুখেও মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েগামী গাড়ির তীব্র চাপ ছিল। তবে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার গাবতলী ও আমিনবাজার এলাকায় গাড়ির চাপ ছিল কম। কোথাও যানজট দেখা যায়নি। তবে ধীরগতিতে বাস চলেছে বলে জানা যায়।
যানজট নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি রয়েছে রাজধানীর নিউমার্কেট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সাভারের নবীনগর ও বাইপাইল, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও গাজীপুর চৌরাস্তায়। এ ছাড়া বিজিবি সদস্যরা সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা, মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রা চ্যালেঞ্জিং হলেও এবার তা স্বস্তিদায়ক হবে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অল্প সময়ের মধ্যে আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
দেশের অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার কারণে প্রতিবছরই ঈদযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সবার সহযোগিতা, জনগণের সচেতনতা এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হবে।
































