সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট বিভাগে বাড়তে শুরু করেছে সংক্রামক রোগ ‘হাম’। শিশুদের পাশাপাশি তরুণরাও আক্রান্ত হচ্ছেন এ রোগে। হাম রোগ নিয়ে সিলেটে এখনই আতঙ্কিত না হতে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বলেছেন; হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে অনেকেই শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে শনাক্তের হার এখনো কম। গতকাল বিকাল পর্যন্ত সিলেটে ৬ রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দু’জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। বাকি চারজন হাসপাতালে রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
আতঙ্কিত না হয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগ। এ জন্য শিশুদের হামের টিকা দেয়ার জন্য গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সিলেটের সিভিল সার্জন নাসির উদ্দিন বুধবার বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিলেট জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে অন্তত ৭০ জন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের স্যাম্পল সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীর আইপিএস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে পরীক্ষায় চার জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এই চারজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের অবস্থা ভালো। এর আগে গত মাসে দুই রোগীর শরীরে হামের অস্তিত্ব মিলেছিল। তারা চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
তিনি বলেন- গত ৪ দিনে তাদের পক্ষ থেকে হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৭০ জন রোগীর স্যাম্পল ঢাকার মহাখালী সেন্টারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ইতিমধ্যে রিপোর্ট আসতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার রাতে যে রিপোর্ট এসেছে তাতে চার জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে- হামের প্রাদুর্ভাব হওয়ায় ইতিমধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ জন্য হাসপাতালে প্রাদুর্ভাব নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে।
ঈদ পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সিলেটে হাম রোগ মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সিলেটে এক সময় করোনা হাসপাতাল ছিল শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল। সেই হাসপাতালের ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি ওয়ার্ডকে হামের জন্য ডেডিকেটেড ওয়ার্ড হিসেবে ঘোষণা করে রোগী ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- হাসপাতালে প্রাদুর্ভাব নিয়ে রোগী ভর্তি হচ্ছে। তারা রোগীদের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন। প্রয়োজনে হামের রোগীদের জন্য আরও ওয়ার্ড বাড়ানো হবে। বর্তমানে যে ওয়ার্ডটি রয়েছে সেটি ২৬শে মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। হাসপাতালের রোগীর পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন- এখন পর্যন্ত তার ওয়ার্ডে ৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল বুধবারই ভর্তি হয়েছেন ২৮ জন। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে হৃদযন্ত্র, শ্বাসযন্ত্র ও কিডনিজনিত সমস্যা রয়েছে।
সিভিল সার্জন জানিয়েছেন- ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে শামসুদ্দিন হাসপাতালে ২৪ জন, জৈন্তাপুরে ২ জন, ফেঞ্চুগঞ্জে ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ছাড়া সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল ও রাগিব-রাবেয়া হাসপাতালে একজন করে রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাম আক্রান্তরা যাতে সিলেটে চিকিৎসাবঞ্চিত না হন সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বিশেষ করে সিলেটে হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫টি আইসিইউ বরাদ্দ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে আইসিইউ সম্পূর্ণ ভাবে প্রস্তুত থাকবে। এদিকে- হামে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় সবাই শিশু। সরকারিভাবে চিকিৎসা নিতে অনেকেই ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। তবে শিশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন- এখন তাদের কাছে অনেক শিশুই হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে চেম্বারে আসছে। তারা চিকিৎসা দিচ্ছেন।
অনেকেই বাড়িতে থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। সুস্থও হচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন- হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে যেসব শিশু হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসকদের চেম্বারে আসছেন তাদের বেশির ভাগই পূর্বে টিকা নেননি। আর টিকা না নেয়ার কারণেই প্রটেকশন কম হচ্ছে। এজন্য শিশুদের হামের টিকা প্রদানের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সিলেট জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন জানিয়েছেন- গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এবার রোগী বেশি থাকার কারণে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি বলেন- শিশুদের জ্বরের সঙ্গে শরীরে লাল দাগ দেখা দিলে নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের কাছে যেতে হবে।































