আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি তিনি এবং ইরানের আয়াতুল্লাহ যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, এটি (হরমুজ) যৌথভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। হয়তো আমি করব অথবা আমি এবং যিনি পরবর্তী আয়াতুল্লাহ হবেন। এ খবর দিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
এতে বলা হয়, গত সপ্তাহে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সোমবার সুর নরম করে তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে দুই দেশ ফলপ্রসূ আলোচনায় লিপ্ত রয়েছে। ইরান অবশ্য সরাসরি কোনো ‘সংলাপ’ হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি, তারা কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর কাজ করছে।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে সমুদ্রে ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম কমাতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তবে এর ফলে তেহরান আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
নিয়ন্ত্রণ মানেই ক্ষমতা: ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এই জলপথে অন্তত ১৭টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিমা বিমা কোম্পানিগুলো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও অতিরিক্ত ঝুঁকি এবং উচ্চ প্রিমিয়ামের কারণে মালিকরা সেখানে জাহাজ পাঠাতে আগ্রহী নন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্র দেশগুলো এই পথে তেল ও গ্যাস পাঠাতে পারছে না, অথচ ইরান প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে যাচ্ছে।
হুতিদের কৌশলে ইরান: মেরিটাইম নিউজ সার্ভিস ‘লয়েডস লিস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, মালয়েশিয়া এবং চীনের মতো দেশগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ব্যবহারের জন্য তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে। ইরান কার্যত তাদের জলসীমায় একটি ‘নিরাপদ শিপিং করিডোর’ তৈরি করেছে। এমনকি একটি জাহাজকে পার করে দেয়ার বিনিময়ে ২০ লাখ ডলার নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতিরা যে কৌশল অবলম্বন করেছিল, ইরান হরমুজ প্রণালিতে তার চেয়েও উন্নত ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। নৌ-নিরাপত্তা বিশ্লেষক মিশেল উইজ বকম্যান বলেন, ইরানিরা হুতিদের ফর্মুলা অনুসরণ করছে, যা পশ্চিমা জাহাজগুলোকে এই এলাকা থেকে দূরে রাখতে বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।































