আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ঠিক এ মুহূর্ত থেকে’ পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো প্রকার ‘হুমকি ছাড়াই’ ইরানকে এই জলপথ পুরোপুরি খুলে দিতে হবে।
পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে। এমনকি, অভিযান শুরু হবে দেশটির সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের মাধ্যমে।
ইরানের হাতে আর কত সময়
জিএমটি সময় অনুযায়ী ট্রাম্প গতকাল শনিবার (২১ মার্চ) রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে ওই পোস্টটি করেন। সে হিসাবে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরান আগামীকাল ২৩ মার্চ (সোমবার) রাত ১১টা ৪৪ মিনিট (তেহরান সময় ২৪ মার্চ রাত ৩টা ১৪ মিনিট) পর্যন্ত সময় পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, জিএমটির সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান ৬ ঘণ্টা। সেই অনুযায়ী, ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটামের শেষ সময় বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী হবে ২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) ভোর ৫টা ৪৪ মিনিট।
এর আগে, তিন সপ্তাহের সংঘাতের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে তার একদিন পরই তিনি কঠোর অবস্থানে ফিরে এসে এই আল্টিমেটাম দেন। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, তেহরান কেবল সেই সব দেশের জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত। অন্য দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানের সেনাবাহিনী পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের মালিকানাধীন জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এ তথ্য জানিয়েছে ফারস নিউজ।
এই উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শনিবার ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যা চলমান সংঘাতের সবচেয়ে বিধ্বংসী হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, সব দিক থেকে প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, আরাদ শহরে ৮৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। এর আগে কাছের দিমোনা শহরে আরও ৩৩ জন আহত হন। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবাসিক ভবনগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
ডিমোনায় মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যদিও ইসরায়েল কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেনি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শহরের একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। এতে এক শিশুসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছে।
পরবর্তীতে ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, তারা তেহরানে বড় ধরনের হামলা শুরু করেছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই দিমোনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) আরও জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ ইসরায়েলের পাশাপাশি কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে।































