দেশবার্তা ঢাকা: ডা. জুবাইদা রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী। তবে এটিই তার একমাত্র পরিচয় নয়। এই মহীয়সী নারী নিজ গুণে আজ অনুকরণীয় এক চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। ভালোবাসা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের অপূর্ব মিশ্রণ ডা. জুবাইদা রহমান। তারেক রহমানের সঙ্গে তার দীর্ঘ পথচলা। কঠিন সংগ্রামেও নিজেকে তিল তিল করে গড়ে তুলে এক আদর্শ নারীতে পরিণত হয়েছেন।
সুহাসিনী, মিষ্টভাষী এই নারী তার কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে এক অন্যান্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। অন্য নারীদের জীবন গঠনেও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে চলেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন চিকিৎসক। তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্টও। দেশের নারীদের ভাগ্যোন্নয়নে জুবাইদা রহমান কাজ করে চলেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশব্যাপী নির্বাচনি প্রচারে জুবাইদা রহমান স্বামী তারেক রহমানের পাশে থেকেছেন।
এরই মধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান নারীদের স্বাবলম্বী হতে কর্মসংস্থান ও জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় নারীর সক্রিয় সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
জুবাইদা রহমান নিজেদের অধিকার আদায়ে নারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রাপ্য বুঝে নিতে নারী যেন নিজের দক্ষতা বাড়ান–তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নারীদের তৃতীয় ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন জুবাইদা রহমান।
জুবাইদা রহমান নিজের পরিচয়ে পরিচিত। নিজের মহিমায় আলোকিত। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান আরেক অনুষ্ঠানে নারীদের স্বাবলম্বী করতে তাদের পরিবারকে সচেতন হতে এবং এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সম্প্রতি গুলশানে সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের নিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের এক ইফতার আয়োজনে তিনি বলেছেন, বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, নারীর মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে। আর এ জন্য নারীদের পরিবার ও উন্নয়নের কেন্দ্রে রাখা হবে। এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানে নারীরা যাতে অগ্রাধিকার পেতে পারে, সে কারণে মাধ্যমিক পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শেখার পাশাপাশি কারিকুলামে কারিগারি শিক্ষাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি আরেক অনুষ্ঠানে বলেন, বিনামূল্যে শিক্ষা সম্প্রসারণ ও মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের উন্নয়ন অসম্পূর্ণ উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান এক অনুষ্ঠানে বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী। দেশ গঠনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
এই চিকিৎসক বলেন, ‘দেশ ও জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে অবদান রাখতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন পূর্ণতা পায় না।’
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘চিকিৎসার অভাবে সন্তান জন্মদানের সময় অনেক মা অকালে প্রাণ হারান। আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে, প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপদভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হবে।’
নারীদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ প্রসঙ্গে জুবাইদা রহমান বলেন, কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। অনেক নারী নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্বস্তিতে চলাচল করতে পারেন না। গার্মেন্ট খাতের হাজারও নারী কর্মীর রাতের চলাচলও নিরাপদ নয়।
সবেতনে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী বলেন, পাশাপাশি নিরাপদ আবাসন, যাতায়াতব্যবস্থা এবং কর্মস্থলে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে প্রতিটি মা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন।
বয়োজ্যেষ্ঠ নারীদের প্রসঙ্গ টেনে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আজ মনে পড়ে সেই বয়োবৃদ্ধ নারীর কথা, যাকে শিকলে করে বেঁধে একটি বৃদ্ধাশ্রমের গেটে দিয়ে আসে তার পরিবারের লোকজন। সেই মাকে আমরা জানাতে চাই, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন করা হবে।’
নারীদের সহায়তায় বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আমরা নারী সাপোর্ট সেল গড়ে তুলব। উদ্যোক্তা নারীদের আর্থিক ও দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হবে। অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’































