দেশবার্তা ঢাকা: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাত বড় সংকটে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি আমদানির একক উৎস মধ্যপ্রাচ্য, আবার পরিশোধিত জ্বালানির সিংহভাগও আসে এই অঞ্চল থেকেই। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, সংঘাত বাড়লে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা এবং দাম উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের ঝুঁকি বাড়বে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালির দুই পাশে শত শত তেলবাহী জাহাজ আটকা পড়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দামও বাড়ছে; ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ৭০ ডলারের আশপাশ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানির সিংহভাগই মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। অপরিশোধিত তেলের প্রধান উৎস সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরিশোধিত তেলও বড় অংশে এই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর নির্ভর। এলএনজি আমদানির চুক্তি আছে কেবল কাতার ও ওমানের সঙ্গে, আর এলপিজি আমদানিও মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর।
এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জাগছে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের সংঘাতময় পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির সরবরাহ ও দাম-দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম তামিম বলেন, এমন সেনসিটিভ অঞ্চলে যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়বে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল ও গরিব দেশগুলো। আমাদের দেশে সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্য বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বল্পমেয়াদে আমরা ১৫–২০ দিন সামলাতে পারব, কিন্তু দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, নেগোসিয়েশন হলেও জাহাজ পাওয়া এবং বিকল্প উৎস থেকে আমদানি চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। সুয়েজ ক্যানেল বন্ধ থাকলে জ্বালানি আনতে সময় ও খরচ বাড়বে।
তবে মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা থাকলেও মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়াসহ বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, চায়না, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের পোর্ট থেকে জুন পর্যন্ত সরবরাহ চুক্তি করা আছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির সরবরাহ আসছে, বাকিগুলোও নির্বিঘ্নে আসবে।
এদিকে, সরবরাহ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা গেলেও দাম বৃদ্ধি দেশীয় বাজার এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সোমবার (২ মার্চ) ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলেও বর্তমানে দেশে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট দেখা দেবে না। পর্যাপ্ত মজুত থাকায় দেশের বাজারে দামেও কোনো প্রভাব পড়বে না।































