দেশবার্তা ডেস্ক: কক্সবাজারের চারটি আসনের মধ্যে দুটি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও শেষ পর্যন্ত চারটিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি। আলোচিত দুটি আসন ছিল কক্সবাজার-২ ও কক্সবাজার-৪। স্থানীয়দের মতে, এসব আসনে জামায়াত প্রার্থীদের ভালো অবস্থান থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা আসন ধরে রাখতে পারেননি। ফলে কক্সবাজারের ৪টি আসনই এখন বিএনপির দখলে।
নির্বাচনের পর থেকে আলোচনা চলছে, চারটি আসনেই বিএনপির বিশাল জয়ের কারণে কক্সবাজার থেকে এবার মন্ত্রিত্ব আসতে পারে।
কক্সবাজার জেলার ৪টি সংসদীয় আসন— ২৯৪ কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া), ২৯৫ কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া), ২৯৬ কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) ও ২৯৭ কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ)—এর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়া গেছে। চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসার মো. আ. মান্নান এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার-১: বিএনপির সালাউদ্দিন আহমদের জয়
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার ৪৯০ জন। পোস্টাল ব্যালটসহ মোট ১৭৮টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ২২ হাজার ১৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল্লাহ আল ফারুক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৭২৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সারওয়ার আলী কুতুবী হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৮ ভোট।
এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ২৭৫টি, বাতিল হয়েছে ৬ হাজার ১৬২টি ভোট। সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৩৭টি, যা মোট ভোটারের ৬৭.০৬ শতাংশ।
কক্সবাজার-২: বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের জয়
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫১ জন। পোস্টাল ব্যালটসহ মোট ১২৫টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৩ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৮৯ ভোট।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিয়াউল হক (হাতপাখা) পেয়েছেন ৮ হাজার ৭৯৯ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল হক (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৭৫৭ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের এস এম রোকনুজ্জামান খান (ট্রাক) পেয়েছেন ১৯৭ ভোট।
এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ১৮৫টি, বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৫২৪টি ভোট। সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৭০৯টি, যা মোট ভোটারের ৬০.০০ শতাংশ।
কক্সবাজার-৩: বিএনপির লুৎফুর রহমানের বিজয়
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬৪ জন। পোস্টাল ব্যালটসহ মোট ১৮৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৬ ভোট।
তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শহীদুল আলম বাহাদুর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮২৭ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুল ইসলাম (হাতপাখা) পেয়েছেন ৫ হাজার ১৪৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া (ফুটবল) পেয়েছেন ৯৪৭ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টির জগদীশ বড়ুয়া (আনারস) পেয়েছেন ৬০২ ভোট এবং আমজনতা দলের নুরুল আবছার (প্রজাপতি) পেয়েছেন ৩৬৭ ভোট।
এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৯৮৮টি, বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৬০৬টি ভোট। সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৪টি, যা মোট ভোটারের ৬৫.৩১ শতাংশ।
কক্সবাজার-৪: হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শাহজাহান চৌধুরীর বিজয়
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৮ জন। পোস্টাল ব্যালটসহ মোট ১১৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নূর আহমদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল হক (হাতপাখা) পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৮ ভোট এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর সাইফুদ্দিন খালেদ (সিংহ) পেয়েছেন ৩৭৯ ভোট।
এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৩২টি, বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৯টি ভোট। সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৫০ হাজার ২৩১টি। ভোটের হার ৬৭.৯৪ শতাংশ।































