পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রচারণার মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীল সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ সংঘর্ষের ঘটনার জেরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহীদুল আলম তালুকদারের গাড়ি অবরুদ্ধ করে রেখেছেন জামায়াত কর্মীরা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ও বিকালে দুই দফা সংঘষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ক্যাম্পিংয়ের জন্য বাউফলের বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে যান একদল কর্মী-সমর্থক। সেখানে তাদের সাথে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
এ সংঘর্ষের ঘটনার জেরে বিকাল চারটার দিকে বাউফল থানার সামনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদারকে বহনকারী গাড়ি জামায়াত সমর্থকরা অবরুদ্ধ করে রাখে। ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়। পরে, জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতার হস্তক্ষেপে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ. বলেন, ‘আহত ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জামাল মৃধা নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটতেই থাকে। এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা খোঁজখবর নিয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সালেহ আহমেদ বলেন, ‘চন্দ্রদ্বীপে সংঘর্ষের খবর পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে উভয়পক্ষের প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনার পর বাউফল উপজেলা ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন ভোটকেন্দ্র এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।































