ক্রীড়া ডেস্কঃ ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ‘৭-১’ স্কোরলাইনটির সঙ্গে জার্মানির নাম জড়িয়ে আছে এক বিশেষ কারণেই। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল জার্মানরা। বেলো হরিজন্তের সেই রাতে টনি ক্রুসের জোড়া গোল, মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডগড়া গোল এবং জার্মানদের ঝড়ো আক্রমণে মাত্র ২৯ মিনিটেই ৫-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল ব্রাজিল। সেই ম্যাচ এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ও অবিশ্বাস্য ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়।
এক যুগ পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ৭-১ স্কোরলাইনের দেখা পেল জার্মানি। তবে এবার প্রতিপক্ষ ছিল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা কুরাসাও। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে রোববার (১৪ জুন) ক্যারিবীয় দলটিকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দাপুটে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জুলিয়ান নাগেলসমানের দল। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে দেন ফেলিক্স নেমেচা। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভীত না হয়ে পাল্টা লড়াই চালিয়ে যায় কুরাসাও।
২১তম মিনিটে জেরেমি লোকাদিয়ার শট প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি বলে কোমেনেনসিয়ার নেয়া শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে যায়। তাতেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় কুরাসাও এবং জার্মানির বিপক্ষে ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।
সমতায় ফেরার পর আরও গুছিয়ে খেলে জার্মানি। ৩৮তম মিনিটে যশুয়া কিমিখের কর্নার থেকে দারুণ হেডে দলকে আবার এগিয়ে দেন নিকো শ্লটারবেক। জার্মানির জার্সিতে এটিই ছিল তার প্রথম গোল, আর সেটি এল বিশ্বকাপের মঞ্চে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সে নেমেচাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পটকিক থেকে গোল করে বিরতির আগেই ব্যবধান ৩-১ করেন কাই হাভার্টজ।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন আরও ভয়ংকর রূপ নেয় জার্মানি। ৪৭তম মিনিটে কিমিখের পাস থেকে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে চতুর্থ গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। এরপর ৬৮তম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাস ও বদলি খেলোয়াড় ডেনিজ উনদাভের বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লিক থেকে গোল করেন নাথান ব্রাউন। ভিএআরে যাচাই শেষে গোলের বৈধতা মেলে এবং ২২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোলের স্বাদ পান।
৭৮তম মিনিটে হাভার্টজের আক্রমণ থেকে তৈরি সুযোগে ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে সহজ ফিনিশে জার্মানির ষষ্ঠ গোল করেন ডেনিজ উনদাভ। জাতীয় দলের হয়ে টানা সাত ম্যাচে এটি ছিল তার সপ্তম গোল।ম্যাচের শেষ দিকে এসেও থামেনি জার্মানদের গোল উৎসব। ৮৮তম মিনিটে লিওন গোরেৎসকার বল দখলের পর উনদাভ নিখুঁত থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন কাই হাভার্টজকে। ডিফেন্ডারের চাপ সামলে এগিয়ে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন হাভার্টজ। তাতেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭-১।
পরিসংখ্যানেও ছিল জার্মানদের একচ্ছত্র আধিপত্য। ম্যাচে ৬৫ শতাংশ সময় বল দখলে রাখে তারা এবং ২৬টি শট নেয়, যার ১১টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে কুরাসাও ৬টি শট নিয়ে মাত্র দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ৭-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে জার্মানি। আর সেই সঙ্গে এক যুগ আগের ব্রাজিল-বিধ্বস্ত রাতের স্মৃতিও যেন নতুন করে ফিরিয়ে আনে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।































