ধর্ম ডেস্ক: বছর ঘুরে সংযম ও ক্ষমার বার্তা নিয়ে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। আজ বৃহস্পতিবার প্রথম রোজা। আগামী (১৬ মার্চ) রাতে পবিত্র শবেকদর পালিত হবে। অত্যন্ত বরকতময় এই মাসের জন্য সারা বছর প্রতীক্ষায় থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা।
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানেই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়।
রমজান মাসে প্রতিদিন সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। এই সংযমের মাধ্যমে মহান আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। এ মাসের গুরুত্ব ও তাত্পর্য প্রত্যেক মুসলমানের কাছে অপরিসীম।
এ মাসে একটি ভালো কাজ করলে আল্লাহ তাআলা প্রতিদানে ৭০ গুণ সওয়াব দান করেন। একটি নফল কাজের জন্যও ফরজ কাজের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘রমজান মাস, এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল করা হয়েছে, মানুষের জন্য হেদায়েত, সত্পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা পালন করে।
বাংলাদেশ পবিত্র মাহে রমজানকে ঘীরে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও গ্রামে মসজিদ ধোয়া-মোছা, আলোকসজ্জা, মাইকের শব্দব্যবস্থা পরীক্ষা এবং তারাবির নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ করেছেন। ইমাম ও মুসল্লিদের বৈঠকে খতমে তারাবির আয়োজন, কোরআন তিলাওয়াত মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইতিমধ্যে নিজেদের দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছেন। অনেকেই নফল রোজা রাখা, ফজর নামাজে জামাতে অংশ নেওয়া, কোরআন তিলাওয়াত বাড়ানো এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রমজানকেন্দ্রিক বয়ান, তাফসির মাহফিল ও দারসের সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের আকাশে শাবান মাসের চাঁদ ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার ওপর; অর্থাৎ ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হবে।
বাজারে ইতোমধ্যে রমজানের আমেজ স্পষ্ট। খেজুর, ছোলা, বুট, ডাল, চিনি, দুধ, সেমাই ও ভোজ্যতেলের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি ও মজুত বাড়ানো হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের মতে, অনেক পরিবার আগেভাগেই এক সপ্তাহ বা পুরো মাসের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে রাখছেন। ইফতার সামগ্রীর দোকানগুলোতেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে—বেগুনি, পেঁয়াজু, জিলাপি ও হালিমের উপকরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গৃহস্থালিতেও চলছে আলাদা প্রস্তুতি। পরিবারগুলো রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছাচ্ছে, ফ্রিজ পরিষ্কার করছে এবং ইফতার ও সেহরির সম্ভাব্য মেনু নির্ধারণ করছে। অনেকেই রমজানকে ঘিরে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ইফতার আয়োজনের পরিকল্পনাও করছেন।
ধর্মীয় আলেমরা বলছেন, রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়—এটি আত্মসংযম, ধৈর্য, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসে দান-সদকা, যাকাত ও ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তারা মুসলমানদের অপচয় পরিহার, নৈতিকতা চর্চা ও সমাজে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে এখন ধর্মীয় আবহে মুখর পুরো দেশ; পবিত্র রমজানের প্রথম দিন আজ।































