নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর আলিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ ফিরোজ আহমেদ বিরুদ্ধে আর্থিক আত্মসাৎ, তহবিল তছরুপ এবং শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে।
রোববার (২৮ জুন) আলিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে শতাধিক শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছেন।
অভিযোগের পাহাড়: টাকা আত্মসাৎ থেকে মারধর
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বার্ষিক পরীক্ষার ফি, ভর্তি ফি, উপবৃত্তির টাকা এবং সরকারি বিশেষ বরাদ্দের অর্থ নিয়ম মেনে খরচ করা হয়নি। বারবার হিসাব চাইলেও তা দেখানো হয়নি। স্কুলের উন্নয়ন তহবিলের বড় অঙ্কের টাকা গায়েব হয়ে গেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ:
কেবল আর্থিক বিষয় নয়, অভিযোগ রয়েছে শারীরিক নির্যাতনেরও। সামান্য শৃঙ্খলাভঙ্গ বা পড়া না পারার কারণে শিক্ষার্থীদের বেত দিয়ে মারধর, কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হতো বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়। একই ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধেও।
স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: “পদত্যাগ চাই, বিচার চাই”
অভিযোগের প্রতিবাদে রবিবার সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে। তারা স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবি ৪টি: ১। প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, ২। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে অবিলম্বে তাদের অপসারণ ও আইনের আওতায় আনা, ৩। আত্মসাৎকৃত সকল অর্থ সুদসহ স্কুল তহবিলে ফেরত, ৪। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. সফিকুল ইসলাম ও সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা আইন অনুযায়ী, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম বা শিক্ষার্থীর উপর শারীরিক নির্যাতন ফৌজদারি অপরাধ। ভুক্তভোগীরা স্থানীয় থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা জাতীয় শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮-এ অভিযোগ করতে পারেন।































