স্পোর্টস ডেস্কঃ থিবো কোর্তোয়ার চোট যেন বদলে দিল ম্যাচের ভাগ্য। বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক মাঠ ছাড়ার পর বদলি নেমে ভুল করেন সেনে লামেন্স, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষদিকে মিকেল মেরিনোর জয়সূচক গোলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে স্পেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসে শনিবার (১১ জুলাই) বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে লা রোহা। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।
এদিন ম্যাচ শুরুর আগে স্পেনের দাবানলে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর ইংলিশ রেফারি মাইকেল অলিভারের বাঁশিতে শুরু হয় শেষ চারের টিকিটের লড়াই। শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে থাকে স্পেন। তবে বেলজিয়ামও আক্রমণে ওঠার সুযোগ খুঁজতে থাকে এবং বিশেষ করে জেরেমি ডকু ও কেভিন ডি ব্রুইনার সমন্বয়ে স্পেনের ডানপ্রান্তে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।
প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ আসে ২২তম মিনিটে। বক্সের বাইরে থেকে নিজের পরিচিত ভঙ্গিতে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করতে চেয়েছিলেন লামিন ইয়ামাল। তবে বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।
৩০তম মিনিটে ম্যাচের জট খোলে স্পেন। ডান প্রান্তে ইয়ামালের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে নিচু ক্রস পাঠান পেদ্রো পোরো। দানি ওলমোর প্রথম শট থিবো কোর্তোয়া ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে জালে পাঠান ফাবিয়ান রুইজ। পেদ্রির পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া এই মিডফিল্ডারই স্পেনকে এগিয়ে দেন।
গোলের পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে লা রোহা। ৩৬তম মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ইয়ামালের নেয়া ফ্রি-কিক কষ্টে ঠেকান কোর্তোয়া।
তবে ৪১তম মিনিটে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। কেভিন ডি ব্রুইনার নিখুঁত পাস থেকে ডানপ্রান্তে বল পেয়ে টিমোথি কাস্তান দারুণ একটি ক্রস তোলেন। সেখানে পাও কুবার্সিকে হারিয়ে দুর্দান্ত হেডে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন চার্লস ডি কেটেলারে। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গোল হজম করে স্পেন। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। দুই দলই একের পর এক আক্রমণ শানায়। ৫৫তম মিনিটে ডকু ও ডি ব্রুইনার দারুণ বোঝাপড়া থেকে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের জোরালো শট অল্পের জন্য জালে জড়ায়নি।
এরপর স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একসঙ্গে পেদ্রি ও ফেরান তোরেসকে নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনেন। জবাবে রুডি গার্সিয়া মাঠে নামান রোমেলু লুকাকু, অ্যাক্সেল উইটসেল ও জোয়াকিন সেইসকে।
৬২তম মিনিটে ইয়ামালের দুর্দান্ত শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন কোর্তোয়া। অন্যপ্রান্তে লুকাকুর উদ্দেশে রাসকিনের ক্রসে রদ্রির হাতে বল লাগার দাবি তোলে বেলজিয়াম, কিন্তু পেনাল্টি দেননি রেফারি।
ম্যাচের সবচেয়ে বড় নাটকীয় মুহূর্ত আসে ৭১তম মিনিটে। উরুতে চোট পেয়ে আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি কোর্তোয়া। চোখে জল নিয়ে মাঠ ছাড়েন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক। অনেকের ধারণা, এটাই হয়তো তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। তার জায়গায় নামেন সেনে লামেন্স।
শেষদিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় স্পেন। ৮১তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসকে মাঠে নামান দে লা ফুয়েন্তে। পাঁচ মিনিট পর দানি ওলমোর জায়গায় নামানো হয় পর্তুগালের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা মিকেল মেরিনোকে।
আর সেই বদলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। ৮৮তম মিনিটে পাও কুবার্সির দূরপাল্লার শট লামেন্স ঠিকমতো তালুবন্দি করতে পারেননি। বল হাত ফসকে সামনে পড়তেই সুযোগসন্ধানীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে সহজেই জালে পাঠান মেরিনো। বদলি নেমে আবারও স্পেনের ত্রাতা হয়ে ওঠেন তিনি।
সাত মিনিট যোগ করা সময়ে মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে বেলজিয়াম। ৯২তম মিনিটে আলেক্সিস সালেমেকার্স উনাই সিমনকে কাটিয়ে বিপজ্জনক ক্রস তুললেও কুবার্সি তা ক্লিয়ার করেন। শেষ মুহূর্তে লুকাকুর হেডও মেরিনো ব্লক করে দেন। এরপর আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি রুডি গার্সিয়ার দল।
শেষ বাঁশি বাজতেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল লা রোহা। এর আগে ১৯৫০ সালে শেষ চারে খেলেছিল তারা। আগামী মঙ্গলবার রাতে ডালাসে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে, বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের বিশ্বকাপ স্বপ্নে আরেকবার ইতি টানল হতাশা। বিশেষ করে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হওয়া থিবো কোর্তোয়ার জন্য এই হারটি হয়ে থাকল আরও বেশি বেদনাদায়ক।





























