আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তীব্র বজ্রঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হলেও, নিজের নির্ধারিত ভাষণ দেওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থান তৈরি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঝড়-বৃষ্টির কারণে অনুষ্ঠান কয়েক ঘণ্টা বিলম্বিত হলেও তিনি ভাষণ দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার (৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’ এবং ‘স্যালুট টু আমেরিকা’ উদযাপনে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। তবে দিনভর তীব্র গরমের পর সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ ধেয়ে আসে তীব্র ঝড় ও বৃষ্টি। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে আয়োজকরাধ উপস্থিত সাধারণ মানুষকে সাময়িকভাবে সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
সারাদিন ওয়াশিংটনের তাপমাত্রা রেকর্ড ৩৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, যা শহরের ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম স্বাধীনতা দিবস। এর মাঝেও ঝড় শুরুর আগে সামরিক বিমানগুলোর আকর্ষণীয় ফ্লাইওভার এবং সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্যারাসুট দলের সদস্যদের বিশাল মার্কিন পতাকা নিয়ে লাফানোর প্রদর্শনী দর্শকদের মুগ্ধ করে। কিন্তু এরপরই শুরু হয় ঝড়-বৃষ্টি।
তবে প্রকৃতির এই বৈরী রূপও ট্রাম্পের মনোবল ভাঙতে পারেনি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আবহাওয়ার কারণে দেরি হলেও তিনি বক্তব্য দেবেন। আয়োজকদের ধারণা, ঝড় কেটে যাওয়ার পর স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে অনুষ্ঠান শুরু করা সম্ভব হবে।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “আমরা অপেক্ষা করব। রাত ২টা বাজুক কিংবা এখন থেকে এক ঘণ্টা পর হোক- আমার কিছু যায় আসে না। দেখে মনে হচ্ছে ঝড়টি কেটে যাবে, এগুলো সবসময়ই কেটে যায়।” তিনি আরো যোগ করেন, “পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি সেখানে থাকব। সামান্য বৃষ্টির জন্য আমি আমাদের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন বন্ধ হতে দেব না।”
আবহাওয়ার এই বিঘ্নকে ইতিবাচকভাবে উস্কে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ঝড় আসলে ‘সৌভাগ্য বয়ে আনে’ এবং ‘অনুষ্ঠানকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে’। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আজ শনিবার রাত, চলুন একটু আনন্দ করি, এমনকি যদি আমাদের অনেক রাতও হয়ে যায়!”
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ওয়াশিংটনের আকাশে একটি রেকর্ড সৃষ্টিকারী ঐতিহাসিক আতশবাজি প্রদর্শনীর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যা এই ভাষণের পরপরই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
































