দেশবার্তা ঢাকাঃ দেশে বিচারাধীন মাদক মামলার সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজারে পৌঁছেছে। দীর্ঘসূত্রতা ও বিচারিক জট কমাতে মাদকসংক্রান্ত মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক অস্ত্র, ডগ স্কোয়াড, নিজস্ব হাজতখানা ও পরিবহন সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান আইনি কাঠামো দিয়ে মাদকের বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক মাদক কারবারি সংঘবদ্ধ ও সশস্ত্র নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই।”
তিনি বলেন, “মাদক শনাক্তকরণ ও পরীক্ষার জন্য দেশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরীক্ষাগার নেই। ফলে জব্দকৃত মাদকের রাসায়নিক পরীক্ষা এবং বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় বেশি লাগছে। এতে মামলার জটও বাড়ছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজারসহ সারাদেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এ বাস্তবতায় মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বিদ্যমান এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতগুলোও এসব মামলার বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের থানায় হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানা নেই। আইন সংশোধনের মাধ্যমে এ ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি আধুনিক অস্ত্র, ডগ স্কোয়াড ও পরিবহন সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনের পর মাদকবিরোধী অভিযান আরো জোরদার করা হবে।”
মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন যুগোপযোগী করতে সংশোধনের কাজ চলছে। সংশোধিত আইন শিগগিরই জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমানে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, আর সেই অর্থ বিভিন্ন অবৈধ চ্যানেলে পাচার হয়ে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদে রূপান্তরিত হচ্ছে। এসব নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় আরো শক্তিশালী ও আধুনিক আইন প্রয়োজন।”
তিনি জানান, মাদক আইনের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং ও সাইবার অপরাধবিষয়ক আইনও হালনাগাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
প্রয়োজনীয় আইন সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।































