দেশবার্তা ঢাকাঃ ঢাকার হাতিরঝিল এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে কাইল্যা পলাশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার মাথায় অস্ত্রোপচার চলছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। চিকিৎসকরা বলছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পর বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশ টেলিভিশনের উল্টো দিকে রয়েল মিষ্টির দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা বলছেন, পশ্চিম রামপুরার মক্কী মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন পলাশ।
নামাজ শেষে তিনি বাসার উদ্দেশে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। হামলাকারীরা প্রথমে তার কলার চেপে ধরে এবং খুব কাছ থেকে কোমর থেকে পিস্তল বের করে মাথায় গুলি করে। অন্তত তিন রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি গুলি তার মাথায় লাগে।
গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ বলছে, পলাশের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, হত্যা, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি প্রায় ২৫ বছর কারাভোগের পর গত ৭ মে কারামুক্ত হন। জানা গেছে, জুমার নামাজ আদায় করে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীও ছিলেন। হামলাকারীদের সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে পুলিশ।
পলাশের বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী ইব্রাহিম মিয়া জানান, এক যুবক পলাশের মাথায় গুলি করে কিছু দূরে থাকা একটি মোটরসাইকেলের পেছনে উঠে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজানকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এ মামলায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন পলাশকে। পরে উচ্চ আদালত তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
ডিএমপির হাতিরঝিল থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, পলাশ জেল থেকে জামিনে মুক্তির পর হাতিরঝিল এলাকাতেই বসবাস করছিলেন। নিজের বাসার কাছেই তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এটি একটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মো. ইবনে মিজান জানান, পলাশ হাতিরঝিল-রামপুরা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ ১৮-২০ বছর জেল খেটে মাস খানেক আগে জামিনে বের হন তিনি। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ অন্তত দশটি মামলার সন্ধান পেয়েছি আমরা। তবে কারা তাকে গুলি করেছে সেই বিষয়টি তদন্ত করছি।































