কলকাতা প্রতিনিধিঃ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলছে। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয় নির্বাচনী প্রচারণার সময়সীমা। এ দফায় রাজ্যটির উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মোট ১৬ জেলার ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। কোনো রকম বিরতি ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রথম দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৮৪ লাখ, নারী ভোটার ১ কোটি ৭৫ লাখের মতো এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪৬৫ জন।
আসন্ন নির্বাচনে একদিকে যেমন মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে, তেমনি বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ), আম জনতা উন্নয়ন পার্টিসহ (এজেইউপি) অন্য দলগুলোও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যদিও বেশিরভাগ আসনেই লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে।
প্রথম দফায় ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদায়ন গুহ (দিনহাটা), সেচমন্ত্রী মানুষ ভূঁইয়া (সবং), শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক (আসানসোল উত্তর), এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী অ্যাটলিট স্বপ্না বর্মন (রাজগঞ্জ), সাবেক মন্ত্রী গৌতম দেব (শিলিগুড়ি)।
বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (নন্দীগ্রাম), দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর), সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা), সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার অশোক দিন্দা (ময়না), ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ)।
কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী (বহরমপুর), মৌসম বেনজির নুর (মালতিপুর), আলী ইমরান রামজ (চাকুলিয়া)। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (রেজিনগর ও নওদা)।
এদিকে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৪০০ কোম্পানি (২ লাখ ৪০ হাজার সদস্য) কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন। রাজ্যের নির্বাচনের ইতিহাসে এই প্রথম এত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রথম দফায় ১৫২ আসনের জন্য মোট ৪৪ হাজার ৩৭৮টি ভোটকেন্দ্র খোলা হয়েছে। এই ভোটকেন্দ্রগুলোর ভেতরে এবং বাইরে লাগানো হয়েছে অন্তত দুটি ক্যামেরা এবং ওয়েব ক্যাস্টিং সফটওয়্যার। প্রতিটি বুথ থেকে ওয়েবকাস্টিং করা হচ্ছে। তার মাধ্যমেই কন্ট্রোল রুমে থাকা নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের কাজে নিযুক্ত কর্মকর্তারা সরাসরি ওই বুথ থেকেই ভিডিও দেখতে পারছেন।
কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করার জন্য কাজে লাগানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) । পাশাপাশি ২ হাজার ১৯৩টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) মোতায়েন করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট চলাকালীন বুথ দখল বা অশান্তির খবর পাওয়া মাত্রই, এই বিশেষ বাহিনীকে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হবে। সবচেয়ে বেশি ২৮৮টি কিউআরটি আছে মুর্শিদাবাদ জেলায়।
পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফায় ভোট আগামী ২৯ এপ্রিল। আর ভোট গণনা আগামী ৪ মে।































