দেশবার্তা ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যস্ততা শেষ হয়েছে এক মাসেরও কম সময়। তবে সংসদ সংক্রান্ত আরও কয়েকটি নির্বাচনের কাজ ইসির হাতে রয়েছে। শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের ভোট আয়োজন বাকি আছে। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনও করতে হবে সংস্থাটিকে। তবে এসব ব্যস্ততা ছাপিয়ে মূল আলোচনা স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে। এর মধ্যে সবার আগে আছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন।
ইসি’র সূত্র জানাচ্ছে, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন করার কর্মপরিকল্পনা নিচ্ছে সংস্থাটি। এক্ষেত্রে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ও শেরপুর-৩ এবং বগুড়া-৬ আসনে ভোট করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। পহেলা বৈশাখের আগেই আসন দুটিতে উপনির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকের বিষয়ে সংসদ থেকে কী সিদ্ধান্ত আসে তার ভিত্তিতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। এপ্রিল-জুনকে টার্গেট করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে যেসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, তা সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস করে ৩০ দিনের মধ্যে রেক্টিফাই করতে হবে। না হলে অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাবে। এজন্য অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতীক বাদ দেয়ার বিষয়ে সংসদের সিদ্ধান্ত এলে সে অনুযায়ী সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হবে।
সূত্রমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতে না হতেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইসি’র নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার চিঠি এসেছে। বিষয়টি কমিশনে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পাঠানো পৃথক দুই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ২রা জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী গত বছরের ১লা জুন এ সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর ২০২০ সালের ৩রা জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২রা জুন। এ ছাড়া ২০২১ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর সিটি করপোরেশনের মেয়াদ গণনা করা হয়। মেয়াদপূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে আলোকে তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে, সে সিদ্ধান্তের জন্য সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবদুর রহমানেল মাছউদ এমন ইঙ্গিত দেন।
সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় নির্বাচন পূর্বের মতো নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার অধ্যাদেশ করেছে। তবে সেটি সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস হতে হবে। এরপর কমিশন আবার বিধিমালা তৈরি করবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমার জানামতে অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে মেয়র প্রার্থী পদে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি বাদ দেয়া হয়েছে। এখন সংসদ বসবে। সংসদ বসার পর এই বিল বা অর্ডিন্যান্স যদি রেক্টিফাই (অনুমোদন) হয়, তবে সেভাবেই নির্বাচন হবে। আর যদি পরিবর্তন হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যায়, তবে অন্যরকম হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর মেয়র ও চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।































