দেশবার্তা ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাড়িফেরা মানুষের ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে গতকাল। ঈদযাত্রার প্রথম দিনে সময়মতো ঢাকা ছেড়েছে ট্রেন। স্বস্তিতেই রেলযোগে রওনা করেছেন নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষ। এই যাত্রীরা গত ৩ মার্চ টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন।
ঈদযাত্রা উপলক্ষে গতকাল সড়ক ও সেতু, রেল এবং নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে সরকার কাজ করছে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি। যানজট আর ভিড়ের ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই পরিবার-পরিজনদের বাড়ি পাঠাচ্ছে মানুষ। গতকাল ঈদযাত্রার প্রথম দিনেও কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। সকালে নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা করেছি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি থাকায় এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যের হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। কয়েকদিন পরে ট্রেনেও ভোগান্তি বাড়বে এমন শঙ্কা থেকে আগেই রওনা করলাম।’ গতকাল ঈদযাত্রার প্রথম দিনে অধিকাংশ (২১টি) ট্রেন নির্ধারিত গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। মাত্র দুটি ট্রেন প্রায় ৪০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) পরিদর্শনকালে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করা হয়েছে।
ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভিন্ন আন্তনগর সার্ভিসে ১২৪টি মিটারগেজ ও ১৪টি ব্রডগেজ কোচ অতিরিক্ত সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে নিয়মিত সার্ভিসের অতিরিক্ত পাঁচজোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সড়ক ও নৌপথে সুশৃঙ্খলভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’
তিনি জানান, অনলাইনে টিকিট বিক্রিতে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ থাকলেও সবাই ন্যায্যভাবে টিকিট পেয়েছেন। প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কেনার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু রেলের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রায় ৩৬ হাজার টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। ঈদযাত্রার চ্যালেঞ্জ বিষয়ে মন্ত্রী জানান, মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ থেকে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়েন, যা বিশ্বের খুব কম শহরেই দেখা যায়।
এত স্বল্প সময়ে এত মানুষের যাতায়াত বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলেও সরকার তা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।































