ফিচার ডেস্ক: সকালটা শুরু হয় যেভাবে, দিনটাও অনেকটা সেভাবেই এগোয়। অ্যালার্ম বন্ধ করে চোখ খুলেই মোবাইল স্ক্রিনে ডুবে যাওয়া, কিংবা জানালা খুলে আলো-বাতাসকে স্বাগত জানানো, এই দুই অভ্যাসের মাঝখানেই লুকিয়ে আছে পুরো দিনের মেজাজ।
সকালের প্রথম এক ঘণ্টা আসলে নিজের সঙ্গে নিজের সবচেয়ে কাছের সময়। এই সময়টায় পৃথিবী একটু ধীর থাকে, শব্দ কম থাকে। তবু আমরা অনেকেই এই সময়টা ছেড়ে দিই নোটিফিকেশন, খবরের শিরোনাম আর অন্যের জীবনের আপডেটের হাতে।
যারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোনে হাত নেন, তাদের দিন শুরু হয় তাড়াহুড়া আর অস্থিরতা দিয়ে। অন্যদিকে যারা প্রথম কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখেন এক কাপ চা, কয়েক মিনিট নীরব বসে থাকা, একটু হাঁটা কিংবা প্রিয় কোনো গান শোনা- তাঁদের দিনের গতি হয় তুলনামূলক শান্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম ভাঙার পরের এই এক ঘণ্টায় মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি গ্রহণক্ষম থাকে। এই সময়টায় আমাদের সারা দিনের মনোভাবকে প্রভাবিত করে। তাই সকালে মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে দিন শুরু করলে দ্রুত ক্লান্তি ভর করে।
সকালের প্রথম এক ঘণ্টা মানেই কঠোর রুটিন নয়। কারও জন্য সেটা হতে পারে নামাজ শেষে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকা, কারও জন্য রান্নাঘরে নাশতা বানানোর সময়, আবার কারও জন্য ছাদের কোণে বসে আকাশ দেখার মুহূর্ত।
এই সময়টায় নিজের সঙ্গে একটু কথা বলার সুযোগ থাকে- আজ আমাকে কী করতে হবে, কী না করলেও চলবে, কোথায় নিজেকে একটু সামলে নিতে হবে। এই ছোট ছোট প্রশ্নই দিনটাকে আরও মানবিক করে তোলে।
হয়তো প্রতিদিন নিখুঁত সকাল সম্ভব নয়। তবু চেষ্টা করা যায় নিজেকে সময় দেওয়ার। কারণ সকালের প্রথম এক ঘণ্টা বদলে দিতে পারে পুরো দিনটাকে। আর পুরো দিনটাকে বদলাতে পারলে, ধীরে ধীরে বদলাতে পারে জীবনও।






























