দেশবার্তা ডেস্কঃ ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুরে নাশকতার পরিকল্পনা ও অর্থায়নের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশের দাবি, বিদেশে আত্মগোপনে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম এ অর্থের জোগান ও নির্দেশনা দিচ্ছেন। আর ঢাকায় তাদের হয়ে লোক সংগ্রহ ও সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন ইলিয়াস মোল্লাহর ভাগ্নে আলিফ মোল্লাহ এবং জাহাঙ্গীরের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল।
ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শ্রমিকদের আন্দোলনে অংশ নেওয়া, মিছিল করা, টায়ারে আগুন দেওয়া এবং গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জন্য পৃথক অঙ্কের টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও পাঠানোর পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হতো। মিরপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, মিছিলে অংশ নিলে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, টায়ারে আগুন দিলে ৩ হাজার টাকা এবং গাড়ি বা স্থাপনায় আগুন দিলে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। কোথাও কোথাও গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জন্য ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। কাজের প্রমাণ হিসেবে ছবি ও ভিডিও পাঠানো বাধ্যতামূলক ছিল।
ডিবি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রংমিস্ত্রি, রিকশাচালক, গ্যারেজকর্মী ও ফুটপাতের দোকানি রয়েছেন। তাদের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন নামে ২০ থেকে ২৫টি অনলাইন গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব গ্রুপে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ডের ছবি-ভিডিও পাঠাতেন। নাশকতায় অংশ নেওয়ার জন্য ১০০ থেকে ১৫০ জনকে সংগঠিত করা হয়েছিল বলেও দাবি পুলিশের।
তদন্তে মাহবুবুর রহমান জুয়েল ও কামাল গাজীসহ কয়েকজনের নাম এসেছে। ডিবির দাবি, মাঠপর্যায়ে লোক সংগ্রহ ও সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন জুয়েল ও আলিফ মোল্লাহ। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের যোগাযোগ ছিল। আলিফের নির্দেশনায় মিরপুরের লাভ রোডে লোকজন জড়ো হয়ে পরে মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে যায়। সেখানে পুলিশের একটি গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ওই ঘটনার ছবি ও ভিডিও আলিফের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে রাজিব চন্দ্র দাস নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। পরে তাকে পল্লবী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, মিরপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তিন থানায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুই দিনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৫০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রোববার গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে একই দাবিতে সোমবার তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন শ্রমিকরা। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, শ্রমিকদের ব্যবহার করে যারা দেশে অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অডিও-ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
































