দেশবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। তাঁর সফর উপলক্ষে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে প্রস্তুত করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য তৈরি করা হয়েছে দুটি হেলিপ্যাড।
প্রধানমন্ত্রীর এক দিনের এই সফরে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, প্রতিবন্ধীদের নগদ অর্থ সহায়তা এবং গৃহহীন ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘর হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালী পৌরসভাসহ নয়টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি থেকে ১০টি করে মোট ১০০টি পরিবারকে সরকারি খরচে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাঠ, টিন ও আরসিসি পিলার দিয়ে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
টিনের বেড়া ও ছাউনি দেওয়া এসব ঘরকে ‘দুর্যোগ সহনীয়’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। এতে দুটি কক্ষের পাশাপাশি রয়েছে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের একটি সংযুক্ত শৌচাগার।
সমুদ্র সৈকতে বিশাল মঞ্চ
সরেজমিনে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সেখানে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সফরস্থলের চারপাশে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
এর আগে পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ মাঠে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে দূরত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থান পরিবর্তন করে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মঞ্চ তৈরির কাজ দেখতে বাঁশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সফরস্থলে আসছেন। মঞ্চ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য দুটি হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা সফরস্থল, যোগাযোগব্যবস্থা ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দলীয়ভাবেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে বাঁশখালীর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য।
ইতোমধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা সফরস্থল পরিদর্শন করেছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দলীয়ভাবেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুরু থেকেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে মাঠে কাজ করছেন, তারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালী আসছেন, তাতে বাঁশখালীবাসী সৌভাগ্যবান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে সাধারণ মানুষ ও আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহল আমিন বলেন, রোববার সকাল ১১টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে নামবেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর পরিদর্শন ও সমাবেশে অংশ নেবেন। সমাবেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ এবং গৃহহীন ১০০টি পরিবারকে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের জন্য সমুদ্র সৈকতের উপযুক্ত স্থানে দুটি হেলিপ্যাডও প্রস্তুত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ। অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের জন্য প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।































